নির্বাচনে হেরে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা, প্রতিবাদে সড়কে দাঁড়ালেন সহযোদ্ধারা  

নির্বাচনে হেরে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা, প্রতিবাদে সড়কে দাঁড়ালেন সহযোদ্ধারা  

মদন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০২ ৮ জানুয়ারি ২০২২  

বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোণার মদনে মানববন্ধন

বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোণার মদনে মানববন্ধন

নির্বাচনে হেরে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোণার মদনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি হয়। পরে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল হয়। 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযুদ্ধা সুব্রত দে, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এর ডেপুটি কমান্ডার গাজী ফেরদৌস আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি লিটন বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পঞ্চম ধাপে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কিছু কুলাঙ্গার দাঙ্গা-হাঙ্গামা করেছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা করে দেউলিয়াত্বের প্রমাণ করেছে। বক্তারা পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তোফায়েলকে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যতায় আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এছাড়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন তিয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুকুট মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত হাসান তুর্জয়, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন মুন্না, টিপু ইসলাম সোহাগ ও আআওয়ামী লীগের  অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

মদন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। ঐ ইউনিয়নের নৌকার মনোনীত প্রার্থী হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান। তোফায়েল এর নিজ বাড়ি ধুবাওয়ালা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধো হেলাল উদ্দিন তালুকদার নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচরণা করায় দু-পক্ষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গত ৫ জানুয়ারি তোফায়েল আহমেদ নৌকার প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন তালুকদার বাড়ি থেকে বের হলে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফায়েল তার লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তোফায়েল এর দুইজন ও হেলাল উদ্দিন তালুকদারে সাতজন লোক আহত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি হয়।

মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, হামালার ঘটনায় পরাজিত প্রার্থী তোফায়েলসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ