আরো তিন নেতাকে বহিষ্কারের কথা ভাবছে বিএনপি

আরো তিন নেতাকে বহিষ্কারের কথা ভাবছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫১ ৮ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:২৯ ৮ জানুয়ারি ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজের অজুহাতে কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি। 

শোনা যাচ্ছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিএনপির কেন্দ্রীয় আরো তিন নেতাকে বহিষ্কারের কথা ভাবছে বিএনপি।

সম্প্রতি বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে দলীয় গোপন সূত্র থেকে জানা গেছে। এদিকে এ খবরটি সিনিয়র তিন নেতার অনুসারী পর্যন্ত জানাজানি হলে তারা স্থানীয়ভাবে বিএনপিকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে। তারা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি জড়িত রয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও বিএনপির ডোনার হিসেবে পরিচিত আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল। 

তারা আরো জানান, এ তিন জনই বিভিন্ন সময় বিএনপিকে নানাভাবে বিব্রত করেছেন। রুহুল কবির রিজভী বিভিন্ন সময় ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তিকে নিয়ে নয়া পল্টনের সড়কে মিছিল করেছেন। এতে করে আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। কারণ এতে প্রমাণিত হয় বিএনপির কোনো জনসমর্থন নেই। রিজভীর উচিত এমন নির্বুদ্ধিতা থেকে বেরিয়ে আসা। 

এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিভিন্ন সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন, যা রীতিমত সংগঠনবিরোধী কাজ। 

অপরদিকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আওয়াল তার বাবার মতো উদার নন। তাবিথ আউয়াল দলের জন্য খুব একটা টাকা-পয়সা খরচ করেন না। তাবিথ আউয়ালের মদ জুয়ার প্রতি আসক্তি রয়েছে। আর এ কারণেই উক্ত তিন নেতাকে দল থেকে বের করে দিতে চাচ্ছেন তারেক রহমান। এটাকে দলের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান বলা যেতে পারে।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের সিনিয়র ও দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের দলের কোনো নেতা বহিষ্কার হতেই পারেন, কয়েকদিন আগে তৈমুর বহিষ্কার হয়েছেন। এসব নিয়ে বাইরের লোকের মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই। যদি কোনো নেতা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকেন, তবে তার শাস্তি তাকে পেতেই হবে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি। আওয়ামী লীগ যদি দলের অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান চালাতে পারে তবে বিএনপি কেন পারবে না। আমরা জনগণকে দেখিয়ে দিতে চাই, আমরাও পারি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন