লক্ষ্মীপুরে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ

লক্ষ্মীপুরে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ

লক্ষ্মীপুর  প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:০১ ৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২২:০২ ৭ জানুয়ারি ২০২২

নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শত শত শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শত শত শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শীতজনিত কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শত শত শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা।

এছাড়াও প্রতিদিন আউটডোর চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭০০ থকে ৮০০ রোগী। এর মধ্যে বেশিরভাগই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু। গড়ে ৪০-৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে শুধু এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ১ হাজারের বেশি রোগী। 

গড়ে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। অথচ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ১৫টি। যেখানে প্রতি বেডে এক শিশু চিকিৎসা নেয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রতি বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই শিশু কোথাও কোথাও ৩ শিশুও থাকছে একটা বেডে। 

এছাড়া বেড সঙ্কুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে এসব শিশু। বেডের তুলনায় রোগী ভর্তি হচ্ছে ১০ গুণ বেশি। একই অবস্থায় জেলার কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোর চিত্রও। 

নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শত শত শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা।

শীত জনিত কারণে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালসহ সবকটি উপজেলায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের মধ্যে বয়স্কদের চেয়ে বেশিরভাগই শিশু। প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। 

প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রতি বেডে এক শিশুকে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও বেড না থাকায় দুই-তিন শিশুকে এক বেডে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। ফলে রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরাও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। ভর্তির পর হাসপাতাল থেকে তাদের খাবার স্যালাইন ও সামান্য কিছু ওষুধ দেয়া হয়। বাকী ওষুধ  বাহির থেকে কিনতে হয়। 

এছাড়া তেমন চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বাড়ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। হাসপাতালে পা রাখার জায়গা নেই। হাসপাতালে হাটা চলা যায় না। বারান্দায় ও শিশু ওয়ার্ডের মেজেতে শিশুদের রাখা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগী। গাদাগাদি করে চিকিৎসা নেয়ার কারণে রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরাও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। 

নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শত শত শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা।

রোগীর স্বজন ফুলবানু জানান, গত তিন দিন হয়েছে তার বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাতলা পায়খানা, বমিসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়েই ভর্তি হন তিনি। কিন্তু এখনো সুস্থ হয়নি। বরং তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজেও ডায়রিয়ার শিকার হয়েছেন। 

অন্য রোগীর স্বজন জানান, শিশু বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করায় বেশি সমস্যায় ভুগছেন। এক বেডে একজনের বদলে তিনজন করে ভর্তি। এতে নিজেরাও বিপাকে। চিকিৎসা নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তাই দিনে বেলায় চিকিৎসা নিয়ে বাসায় রাত যাপন করেন পুনরায় সকালে এসে চিকিৎসা নেন। স্থান সঙ্কুলান হওয়ায় এভাবে প্রায় অভিভাবক চিকিৎসা নিচ্ছে। 

ঠান্ডার কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েই চলছে। এটি সামনে আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন। গত এক সপ্তাহে এক হাজারের বেশি শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে একশ শিশু। এর বাইরে আউটডোর ও ইনডোরে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ রোগী আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় এসব রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। তারপরও চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সাধ্যমতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ সময়ে শিশুদের গরম কাপড় পরিধানসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শত শত শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা।

শিশু ডায়েরিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ বলেন, প্রতিদিন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশু ভর্তি হচ্ছে। প্রত্যেককে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। লোকবল কম থাকায় সাময়িক হিমশিম খাচ্ছে। তবে প্রত্যেককে নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছে। 

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, এক সপ্তাহে সদর হাসপাতালালেই প্রায় এক হাজারের বেশি শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে ১০০ শিশু। এছাড়া আউট ডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে শত শত রোগী। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা’ আব্দুল গাফফার বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ সময়ে এই রোগের প্রকোপ বেড়েই যায়। পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। শিশুদের গরম কাপড় পরিধানসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এক সপ্তাহে সদর হাসপাতালই প্রায় এক হাজারের বেশি শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে একশ শিশু। অথচ বেড রয়েছে ১৫টি। । 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে