ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই স্থানে বিএনপি ও ছাত্রলীগের সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই স্থানে বিএনপি ও ছাত্রলীগের সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৩ ৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২০:০৫ ৭ জানুয়ারি ২০২২

পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে শহরে পুলিশের তৎপরতা: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে শহরে পুলিশের তৎপরতা: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই স্থানে ও একই সময়ে জেলা বিএনপি ও জেলা ছাত্রলীগ পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ আহ্বান করায় সমস্ত পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। 

শনিবার দুপুরে পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টার প্রাঙ্গণে পাল্টাপাল্টি এ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছিল। 

এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে জেলা বিএনপির শীর্ষ চার নেতাকে শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির নেতাদের আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি।

ঐ নেতারা হলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে গত ৫ জানুয়ারি ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টারের সামনে সমাবেশ আহ্বান করে জেলা বিএনপি। শনিবার দুপুরে এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিলো। 

সমাবেশে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সাত্তার ভূঞা এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। 

এরই মধ্যে একই স্থানে একই সময়ে ছাত্র সমাবেশ আহ্বান করে জেলা ছাত্রলীগ। এমন পরিস্থিতিতে শহরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়। সমাবেশস্থলে  পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেই সমাবেশ আহ্বান করেছি। আমাদের কর্মসূচি বানচাল করতেই ছাত্রলীগ সেখানে তাদের সমাবেশ আহ্বান করে।  

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ করার জন্য বিএনপির আগেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছি। আমাদের সমাবেশ বানচাল করার জন্য বিএনপি তাদের সমাবেশস্থলে পাল্টা সমাবেশ আহ্বান করেছে। 

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, বিএনপি ও ছাত্রলীগ কেউই সমাবেশের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেয়নি। তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরো পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। শনিবার ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টার, সেন্টার সংলগ্ন খালি জায়গাসহ সমগ্র পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে শহরের ১৪৪ ধারার বিষয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে এসপি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান বিএনপির চারনেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ