পালিত শিয়াল নিয়ে গেল বন বিভাগ, দুই শিশু সন্তানসহ গৃহবধূর কান্না

পালিত শিয়াল নিয়ে গেল বন বিভাগ, দুই শিশু সন্তানসহ গৃহবধূর কান্না

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩৪ ৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৯:৫২ ৭ জানুয়ারি ২০২২

পালিত শিয়াল নিয়ে যাওয়ায় দুই শিশু সন্তানসহ গৃহবধূর কান্না । ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পালিত শিয়াল নিয়ে যাওয়ায় দুই শিশু সন্তানসহ গৃহবধূর কান্না । ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এক বছর যাবত গৃহবধূর বাড়িতে পালিত হচ্ছিল একটি খেকশিয়াল। এরই মধ্যে অনেক বড় হয়ে গেছে শিয়ালটি। তবে এক বছর যাবত খাঁচায় বন্দী শেয়ালের খবর পেয়ে ঐ গৃহবধূর বাড়ি থেকে শিয়ালটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় বন বিভাগ।

দীর্ঘদিন নিজের সন্তানের মতো পালিত শিয়ালকে হঠাৎ করে বনবিভাগের লোকজন নিয়ে যাওয়ায় মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাই নিজের পোষা শেয়ালের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কার্যালয় পর্যন্ত ছুটে যান ঐ নারী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে দুই শিশু সন্তানসহ কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

নিজেদের খেলার সাথী শিয়ালকে হারিয়ে ঐ নারীর দুই প্রতিবন্ধী শিশুও কান্না করতে থাকে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঐ নারীকে বুঝিয়ে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন >>> পাবনায় দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংষর্ষ, নিহত ১

জানা যায়, কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামানের কাছে খবর আসে হাজিরহাট সংলগ্ন ফলকন গ্রামে বেদে বধূ হাসিনার বাড়িতে একটি শিয়াল খাঁচায় বন্দী আছে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শুক্রবার দুপুরে বন বিভাগের লোকজন গিয়ে ওই গৃহবধূরর বাড়ি থেকে খাঁচায় বন্দী শেয়ালটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

পালিত শিয়ালের শোক সামলাতে না পেরে ঐ নারীও বনকর্মকর্তাদের পেছনে পেছনে ছুটে যান উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। এ সময় ঐ নারীর প্রতিবন্ধী দুই শিশুও  ছুটে আসে। আসতে আসতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই গৃহবধূ।

গৃহবধূ জানান, খুব ছোট অবস্থায় তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২টি শিয়াল শাবক কিনে পালন করছিলেন। কিন্ত কয়েক দিন পর একটি শাবক মারা যায়। পরে বাকি একটিকে তিনি লালন পালন করে বড় করেন। তার দুই প্রতিবন্ধী শিশু ঐ শিয়ালটির বন্ধু হয়ে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের খেলার সাথীকে নিয়ে যাওয়ার পর শিশু দুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছে না তারা। 

গৃহবধূ বলেন, শাবক শিয়ালটি লালন পালনে অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে। কারণ তার সন্তানদের মতো করে লালন পালন করেছেন।

উপজেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, খাঁচায় বন্দী করে বন্যপ্রাণী লালন পালন করা অপরাধ। তাই শেয়ালটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাতে তাকে অবমুক্ত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন ওই গৃহবধূ শিয়ালটিকে আটকে রেখেছেন। এমন সংবাদ পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে শিয়ালটিকে উদ্ধার করি এবং গৃহবধূকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে