চুয়াডাঙ্গায় দুই নারীর লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় দুই নারীর লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৬ ৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:১৯ ৭ জানুয়ারি ২০২২

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় যৌতুকের দাবিতে সুফিয়া খাতুন (৩২) নামে দুই সন্তানের জননীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

অপরদিকে সদর উপজেলার বলদিয়া গ্রামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই দুই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে জুড়ানপুর গ্রামের মাদরাসাপাড়ার নিজাম উদ্দিনের ছেলে জাকিরুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের মসজিদপাড়ার ইসলাম আলীর মেয়ে সুফিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়েও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবি করে আসছিল স্বামী জাকিরুল। মেয়ে পক্ষ কয়েকবার মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ার পরও বারবার আরো টাকা দাবি করেন তিনি। 

আরো পড়ুন >>> মাদরাসার টয়লেটে ছাত্রকে বলাৎকার, ৩ শিক্ষক গ্রেফতার

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সুফিয়াকে আবারো মারধর করেন তার স্বামী। রাত আড়াইটার দিকে সুফিয়ার চিকিৎসার জন্য কবিরাজ নিয়ে আসে জাকিরুল। সকালে সবাই জানতে পারে সুফিয়া মারা গেছেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঐ ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরদিকে, সদর উপজেলার বলদিয়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে ওমর ফারুক আশিকের সঙ্গে দেড় বছর আগে বিয়ে হয় জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মমিনের ছেলে মনিকা খাতুনের। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে মারধর করে আসছিল স্বামী ও স্বামীর স্বজনরা। এরইমধ্যে মনিকা গর্ভবতী হয়। তবুও তার ওপর নির্যাতন চলতে থাকে। এক পর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।

মনিকার পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরে দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

দর্শনা থানার ওসি লুৎফুল কবীর জানান, ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই জানা যাবে এটি হত্যা না-কি আত্মহত্যা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে