মাদারীপুরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

মাদারীপুরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৮ ৪ জানুয়ারি ২০২২  

মোস্তাফিজুর রহমান

মোস্তাফিজুর রহমান

মাদারীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ছাত্রী অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে বুধবার মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি এলাকার এক ছাত্রী এই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেশন ট্রেডের সপ্তম ব্যাচের নিয়মিত কোর্স সম্পন্ন করেছে। তিনি গত মঙ্গলবার তার সনদ তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করায়। সদন না পাওয়ার বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানাতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ওই ছাত্রী শিক্ষাকালীন সময় প্রথম তিন মাস শিক্ষা ভাতা পেলেও পরে তাদের শিক্ষা ভাতা প্রদান করা হয়নি। ওই টাকা অধ্যক্ষ আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তাকে ঘটনা বলেছি। আশা করি তিনি শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। প্রতিষ্ঠানের সিসি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই সব ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। তবে তিনি আশঙ্কা করেন অধ্যক্ষ তার অপকর্ম লুকাতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ডিলেট করে দিতে পারেন। জেলা প্রশাসক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর আন্দোলন করবো।

আরো পড়ুন: বিদায়ী বছরে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশযাত্রা বেড়েছে তিনগুণ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, মঙ্গলবার সকালেও সিসি ক্যামেরা চালু দেখেছি। এখন হঠাৎ করে নষ্ট হলো কিভাবে?

তবে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ছাত্রী আমার রুমের দরজা ধাক্কাধাক্কি করছিল এবং পিয়নের কলার ধরছে। পরে আমি দুই নারী কর্মীকে দিয়ে তাকে বাইরে বের হয়ে যেতে বলি। সিসি ফুটেজ গায়েবের বিষয় তিনি বলেন, অনেক দিন থেকেই প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা নষ্ট। নষ্ট সিসি ক্যামেরা কেন সারানো হয়নি এমন প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দিতে পারেনি।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে ফোন দিলে তিনি কোনো সাড়া দেননি। 

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, সরকারি খরচে টিটিসিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সেই সিসি ক্যামেরা চালু থাকবে না এটা দুঃখজনক। আমরা ধারণা করছি, উনি তার অপকর্ম লুকাতেই সিসি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার কথা বলছেন। একজন ছাত্রীর গায়ে হাত তোলা অবশ্যই অন্যায়। এটা তদন্তপূর্বক ন্যায়সঙ্গত বিচার দাবি করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম