খালেদা জিয়া কখনোই মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

খালেদা জিয়া কখনোই মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২০ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:১৫ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পৌর শহরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে  মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক- ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পৌর শহরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক- ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য লোক পাঠালেও তিনি স্বেচ্ছায় ক্যান্টমেন্টে থেকে যান। তিনি কখনও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না।

তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন যুদ্ধকালীন সময়ে এলাকায় থাকা নিরাপদ নয়, তাই ভারতে চলে যাওয়াই ভাল। সে কথা না শুনে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ক্যান্টমেন্টে অবস্থান নিয়েছিলেন খালেদা। স্বেচ্ছায় যারা ক্যান্টমেন্টে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারা কখনোই মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পৌর শহরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে  মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে খুনি মুশতাক ও জিয়া পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল ইসলামের অপব্যবহার করে ও  ভাওতা দিয়ে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের কাছে এতিমের টাকাও নিরাপদ ছিল না। সেই অপরাধেই এখন জেল খাটছেন উনি।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াতসহ অন্য দলগুলোর নেতারা  ক্ষমতায় ছিল ২৯ বছর। সেই সময় তারা দেশের কোনো উন্নতি করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশ নিরাপদ। আমরা ক্ষমতায় আসার পর কী পরিমাণে উন্নয়ন হয়েছে তা একটু চারিদিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন। সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে চারতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবন করে দেওয়া হয়েছে। চারদিকে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের আরো উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী হই তখন মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। সেটা এখন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। দেশের সব বধ্যভূমিকে সংরক্ষণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণ করা হবে। যেন ৫০ বছর পর কেউ দেখলে বোঝতে পারে এটা মুক্তিযোদ্ধার কবর। আপনারা যেহেতু অভিযোগ করেছেন তাই রাজাকারদেরও তালিকা করা হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করবো।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি রশিদ আহমদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মহিবুর রহমান মানিক, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিউর রহমান, সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত মহিলা এমপি শামীমা শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, ছাতক পৌর আওয়ামী লীগের  আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নূরুল মোমেন প্রমুখ।

এর আগে শুক্রবার সকালে মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক ছাতকে নব নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে