সহযোগীকে ধর্ষণ করতে না দেওয়ায় প্রেমিকাকে হত্যা করলেন প্রেমিক

সহযোগীকে ধর্ষণ করতে না দেওয়ায় প্রেমিকাকে হত্যা করলেন প্রেমিক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৩:০৪ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১  

নিহতের প্রেমিক খলিল উদ্দিন ও তার সহযোগী গোলাম হোসেন

নিহতের প্রেমিক খলিল উদ্দিন ও তার সহযোগী গোলাম হোসেন

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সহযোগীকে ধর্ষণের সুযোগ না দেওয়ায় প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে ও গলা কেটে হত্যা করেছে প্রেমিক ও তার সহযোগী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে প্রেমিক খলিল উদ্দিন ও তার সহযোগীকে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক প্রেমিক খলিল উদ্দিন।

নিহত তরুণী ঐ উপজেলার বাগাউড়া গ্রামের ছুফি মিয়ার কন্যা। গ্রেফতারকৃত প্রেমিক খলিল উদ্দিন পার্শ্ববর্তী হরিনগর গ্রামের মিরাশ উদ্দিনের ছেলে ও তার সহযোগী গোলাম হোসেন একই গ্রামের এরশাদ উল্ল্যাহর ছেলে।

হবিগঞ্জ পিবিআই’র এসআই আব্দুল আহাদ জানান, ২৭ ডিসেম্বর সকালে নবীগঞ্জ থানাধীন বড় ভাকৈর পুর্ব ইউপির অন্তর্গত বাগাউড়া এলাকার একটি জমি থেকে গলাকাটা ও হাত-পা বাঁধা এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঐ ঘটনায় পরদিন মামলা করেন নিহতের বাবা। মামলাটি তদন্তের জন্য দেওয়া হয় পিবিআইকে।

তিনি আরো জানান, দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার ঐ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিহতের প্রেমিক খলিল উদ্দিন ও তার সহযোগী গোলাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জুবা আক্তার তার ছদ্মনাম পরিচয় ব্যবহার করে খলিল উদ্দিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বেশ কয়েকবার তারা দৈহিক সম্পর্কেও মিলিত হয়। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন জুবা তার অসুস্থতার কথা বলে খলিলের কাছে দুই হাজার টাকা ধার চায়। ঐ রাতেই তাদের লেনদেন হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে সন্ধ্যায় গোলাম হোসেনের সঙ্গে দেখা হয় খলিলের। ঐ সময় সব শুনে ঐ তরুণীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হওয়ার কথা জানায় সে।

আরো জানা গেছে, সেই রাতে জুবা ও খলিল আবারো দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ঐ সময় আড়ালে লুকিয়ে থাকে গোলাম হোসেন। পরে সে জুবাকে দৈহিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। এতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে জুবাকে গোলাম হোসেনের সঙ্গে দৈহক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করে প্রেমিক খলিল। এতেও রাজি হয়নি সে। পরে জুবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বসারোধ ও গলা কেটে হত্যা করে খলিল ও তার সহযোগী। হত্যাকাণ্ডে শেষে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর