পাস করল বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেওয়া সেই সিনথিয়া

পাস করল বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেওয়া সেই সিনথিয়া

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:৩৬ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ০০:৩৭ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১

সিনথিয়াকে মিষ্টি খাইয়ে দেন শিক্ষক

সিনথিয়াকে মিষ্টি খাইয়ে দেন শিক্ষক

নরসিংদীর পলাশে বাড়িতে বাবার লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সেই সিনথিয়া কবির পাস করেছেন। তিনি জিপিএ ৪ দশমিক ৯৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সিনথিয়ার এ ফলাফলে খুশি সহপাঠী ও শিক্ষকরা। তবে পরীক্ষার পাসের খবর শুনে সবচেয়ে বেশি যিনি খুশি হতেন, সেই বাবাকে হারিয়ে আনন্দের মাঝেও শোকের কালো ছায়া রয়ে গেছে সিনথিয়ার মাঝে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পরীক্ষায় পাসের খবর শুনে বাবার কবরের পাশে ছুটে যান সিনথিয়া কবির। সেখানে বাবার জন্য দোয়া করে পরিবারের সঙ্গে পাসের আনন্দ ভাগ করে নেন।

সিনথিয়া কবির বলেন, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় বারবার বাবাকে মনে পড়ছিল। প্রতিবারই বাবাই আমার পরীক্ষার ফলাফল জেনে আসতেন। এবার বাবা নেই বলে নিজের ফলাফল নিজেই আনতে হলো। তবে বাবার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার বানাবে। বাবা মারা যাওয়ায় সেই স্বপ্ন আর সত্যি হচ্ছে না।

সিনথিয়ার মা সালমা আক্তার জানান, দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সিনথিয়া সবার বড়। পরিবারের আয়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন স্বামী হুমায়ুন কবির। তাকে হারিয়ে এখন পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণেই সমস্যা হচ্ছে। মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

পলাশ জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের শতভাগ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে সবার প্রথম সিনথিয়ার ফলাফল নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম। মেয়েটা বাবার লাশ রেখে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ফলাফলের খবর শুনে ভালো লাগল। সিনথিয়া অল্প কিছু নম্বরের জন্য জিপিএ ৫ পায়নি। তবে এ পরিস্থিতিতে যটতুটু ফলাফল অর্জন করেছে তা অনেক ভালো করেছে।

জনতা জুটমিল লিমিটেডের জিএম মো. গোলাম সারোয়ার জাহান বলেন, সিনথিয়ার বাবা হুমায়ুন কবির জুটমিলে কোয়ালিটি অফিসার পদে দায়িত্বে ছিলেন। মারা যাওয়ার আগের রাতেও তিনি কর্মস্থানে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠান থেকে তাৎক্ষণিক পরিবারটিকে মাসিকভাবে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া সিনথিয়ার উচ্চশিক্ষা গ্রহণেও প্রতিষ্ঠান থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।

চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় হুমায়ন কবির। আর বাবার লাশ বাড়িতে রেখেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তার বড় মেয়ে সিনথিয়া কবির।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর