‘মেয়েডার লাশ সামনে রেখে কানতেও পারি না’

‘মেয়েডার লাশ সামনে রেখে কানতেও পারি না’

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৮ ৩০ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:৩৩ ৩০ ডিসেম্বর ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যমজ বোনের পরে এবার বাড়িতে এল মা সিমু আক্তারের মরদেহ। নিখোঁজের পাঁচদিন পর গতকাল সিমু আক্তারের মরদেহ সুগন্ধা নদীতে ভেসে ওঠে। দাফনও হবে পাশাপাশি কবরে। বাড়িতে প্রতিবেশীরা সিমুর কবর প্রস্তুত করলেও নেই কন্নার আওয়াজ।

সিমুর বাবা আজিজ মেয়ের মরদেহের খাটিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছুই বলার ভাষা নেই তার মুখে। 

এর আগে গতকাল বুধবার সকালে সুগন্ধা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন। সিমুর ভাই হান্নান নিজেই গিয়ে তার বোনের মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে আসেন। 

জানা গেছে, বরগুনার তালতলী উপজেলার আগাপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজের মেয়ে সিমু, দুই নাতনি লামিয়া-সামিয়া ও স্ত্রী দুলু বেগম ঢাকা থেকে বরগুনায় আসছিলেন। তারা অভিযান-১০ লঞ্চে উঠেছিলেন বলে আব্দুল আজিজ জানতে পারেন। এরপর খবর আসে লঞ্চে আগুন লেগেছে। ওই আগুনে আব্দুল আজিজের দুই নাতনি পুড়ে মারা যায়। তাদের মরদেহ পেয়ে দাফন করেন। কিন্তু তখন তার মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন এবং স্ত্রী হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। এদিকে সিমুর স্বামী রবিউল দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন। 

আরো পড়ুন: এসএসসিতে পদার্থবিজ্ঞানে ফেল, ছাত্রের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার ভোরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যমজ বোন লামিয়া-সামিয়ার কবরের পাশেই তার মা সিমুর কবর প্রস্তুত হচ্ছে। প্রতিবেশীদের যাওয়া-আসা থাকলেও বাড়িতে নেই কান্নার কোনো শব্দ। এলাকার লোকজন জানান, যেহেতু মরদেহটি অর্ধগলিত, তাই ভোরে দাফন সম্পন্ন করা হয়। দুই মেয়ে ও মাকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসাংবাদিকদের দেখে মৃতের বাবা আব্দুল আজিজ হু-হু করে কেঁদে উঠে বলেন, ‘মোর নাতির (নাতনি) লাশ লইয়া আইছেন কয়দিন আগে। আইজগো আইছেন মোর মাইয়ার লাশটা লইয়া। এহন মাইয়াডার মরা মুখটি খুলে দেন আমরা শেষবারের মতো দেখব।’ 

আব্দুল আজিজ আরও বলেন, ‘আম্মেরা কেম্মে বোঝবেন যে সন্তানের লাশ বাবা কাঁধে নিয়ে কবরস্থানে গিয়ে দাফন করা, এই কষ্টের ভার একজন বাবা কেম্মে মেনে নিবে। মেয়েডার লাশ সামনে রেখে কানতেও পারি না।’ এটুকু বলেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। 

মৃত সিমুর ভাই হান্নান বলেন, প্রতিদিনই বোনের মরদেহের খোঁজখবর নিতে ঝালকাঠির সেই ঘটনাস্থলে যাই। গতকাল জানতে পারি দুটো নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এমন সংবাদ পেয়ে ছুটে যাই, গিয়ে দেখি আমার বোনের মরদেহটি পড়ে আছে মাটিতে। জেলা প্রশাসনের কাছে বোনের সব তথ্য দিয়ে আমার বোনের মরদেহ নিয়ে বাড়িতে আসি। 

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কাওসার হোসেন বলেন, নিহতদের পরিবারকে দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম