বিয়ের দেড় মাসেই লাশ হলো সানজিদা, স্বামী-শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা

বিয়ের দেড় মাসেই লাশ হলো সানজিদা, স্বামী-শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৯ ৩০ ডিসেম্বর ২০২১  

স্বামী আবুল বাশারের সঙ্গে নিহত সানজিদা আক্তার

স্বামী আবুল বাশারের সঙ্গে নিহত সানজিদা আক্তার

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুরের বাসিন্দা সানজিদা আক্তার। মাত্র দেড় মাস আগে বালিগাঁও ইউনিয়নের আকরামপুরের আবুল বাশারের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। মেহেদীর রঙ পুরোপুরি মুছে যাওয়ার আগেই শ্বশুর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার রাতে সানজিদার স্বামী আবুল বাশারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, গত ৭ নভেম্বর দুবাই প্রবাসী আবুল বাশারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ফেনী সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সানজিদাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সোমবার রাতে আকরামপুরের শ্বশুরবাড়িতে নিজ ঘর থেকে সানজিদার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে কাশিমপুরে বাবার বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

নিহতের মা মোহছেনা আক্তার জানান, যৌতুক লোভী স্বামী বাশার ও তার পরিবার সানজিদার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালায়। তাদের প্ররোচনায় সোমবার রাত ৮টার দিকে নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সানজিদা। তবে তার বাবার বাড়িতে খবর দেওয়া হয় রাত ১০টার পর।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় সানজিদার স্বামী আবুল বাশার, শ্বশুর ওলি আহমেদ, শাশুড়ি সাফিয়া খাতুন, ভাসুর জাফর, জা রুবি বেগম ও ননদ পিংকি বেগমকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। পরে পুলিশ আবুল বাশারকে গ্রেফতার করেছে।

নিহতের পরিবার জানায়, সানজিদাকে পছন্দ হয়নি বলে প্রায়ই কটাক্ষ করত স্বামী আবুল বাশার। পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া সানজিদাকে কাবিনের টাকা নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যেতেও বারবার চাপ প্রয়োগ করে সে। দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে সানজিদা।

সানজিদার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ও তার স্বামী আবু বাশারকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর