বাংলা সাহিত্যের এক মহারাজ

সৈয়দ শামসুল হকের ৮৭তম জন্মদিন

বাংলা সাহিত্যের এক মহারাজ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৬ ২৭ ডিসেম্বর ২০২১  

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। ছবি: সংগৃহীত

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। ছবি: সংগৃহীত

‘সব্যসাচী’ লেখক তকমা পাওয়ার নেপথ্যে বহু পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, চলচ্চিত্র, গান, অনুবাদসহ সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সাবলীল পদচারণার জন্যই ‘সব্যসাচী’ হিসেবে সবাই চেনে। কবিতার ধ্বনিসঙ্গীতে, নাটকের আলো আঁধার মঞ্চে, গল্পের অবিরাম বয়নে, এই দেশ ও মানুষের কথা বলেছেন তিনি। বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের আবেগ-অনুভূতি-বিকার সবই খুব সহজ কথা ও ছন্দে উঠে এসেছে তার লেখনীতে। তিনি নির্মল কথাশিল্পী, সব্যসাচী লেখক, কবি ও নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক। সৈয়দ শামসুল হক বহুমাত্রিক সাহিত্য-সৃজনের এক বিস্ময়।

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্যের সবক্ষেত্রে সদর্প বিচরণকারী সৈয়দ হক বেঁচেছিলেন ৮১ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে দু’হাত ভরে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও গান লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে আমৃত্যু মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জগন্নাথ কলেজে মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সালে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

১৯৫০-এর দশকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। তার অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে, খেলারাম খেলে যা, নিষিদ্ধ লোবান, সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন, বারো দিনের শিশু, তুমি সেই তরবারি, কয়েকটি মানুষের সোনালি যৌবন ও নির্বাসিতা।

সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে– একদা এক রাজ্যে, বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, পরানের গহীন ভিতর, অপর পুরুষ, অগ্নি ও জলের কবিতা। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় ও নুরুলদীনের সারাজীবন সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মাটির পাহাড় চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখেন। পরে ‘তোমার আমার’, ‘শীত বিকেল’, ‘কাঁচ কাটা হীরে’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেন। ‘বড় ভালো লোক ছিল ও পুরস্কার নামে দুটি চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৭১ সালের নভেম্বরে তিনি লন্ডন চলে যান। সেখানে বিবিসি বাংলার সংবাদ পাঠক হিসেবে চাকরি করেন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবর বিবিসি থেকে তিনিই পাঠ করেছিলেন।

সৈয়দ হক প্রথিতযশা লেখিকা ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হককে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।

সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, গৌরবের অহংকার নিয়ে তার সাহিত্য রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক ধারার সাহিত্যিক হিসেবে কাল থেকে মহাকালে ব্যাপ্ত থেকে এক অনুপ্রেরণার উৎস।

বাংলা সাহিত্যের এই মহারাজ ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে, তিনি প্রায় ৪ মাস লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিলে ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে