রাজশাহী বিএনপিতে গ্রুপিং-টাকার খেলা

রাজশাহী বিএনপিতে গ্রুপিং-টাকার খেলা

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০২ ২৩ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৬:৪৩ ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

রাজশাহী মহানগত ও জেলা বিএনপির কার্যালয়

রাজশাহী মহানগত ও জেলা বিএনপির কার্যালয়

রাজশাহী বিএনপিতে নেই কোনো নীতি-আদর্শের বালাই। কমিটি গঠনে হয় টাকার খেলা। ত্যাগী নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় দলে সৃষ্টি হয়েছে গ্রুপিং। যোগ্য নেতারা পদবঞ্চিত হওয়ায় জেলা ও মহানগর বিএনপি এখন একাধিক গ্রুপে বিভক্ত।

পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটিকে এসব বিষয় বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এ কারণে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যক্রমে গতি ফেরেনি। বারবার কমিটি ভেঙে অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হতাশ। জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুখও দেখতে পাচ্ছেন না তারা। সংগঠনের এমন দুরবস্থার পেছনে কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু অসাধু নেতার বাণিজ্য, অদূরদর্শিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুকে বাদ দিয়ে কেন্দ্র থেকে দুটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। মহানগর কমিটির সভাপতি করা হয় নগর যুবদলের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন শফিকুল হক মিলন। অন্যদিকে তোফাজ্জল হোসেন তপুকে সভাপতি ও মতিউর রহমান মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপির নতুন কমিটিও হয় একই দিনে।

সে সময়ই দুই কমিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ। তারা মিনু ও নাদিমকে পদ থেকে সরানোর বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারেননি। এ নিয়ে বিএনপি অফিসে তালা- পাল্টা তালা দেওয়ার ঘটনা চলে বেশ কিছুদিন। এর সমাধান করতে রাজশাহীতে গেলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে পচা ডিম ছুড়ে মারেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এখানে বিএনপির রাজনীতি কতিপয় নোংরা লোকের হাতে চলে গেছে। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।

২০০৯ সালে রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে মিজানুর রহমান মিনুকে সভাপতি ও শফিকুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক ও জেলাতে নাদিম মোস্তফাকে সভাপতি ও প্রয়াত অ্যাডভোকেট কামরুল মুনীরকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৬ সালে শীর্ষ দুই পদ থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বুলবুল-মিলনের নেতৃত্বে কয়েক বছরেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি মহানগর বিএনপি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এমএস