পদার্থবিজ্ঞানের লিভার

পদার্থবিজ্ঞানের লিভার

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২৩:৪০ ১৯ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:১৬ ২০ ডিসেম্বর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

লিভার শব্দটি শুনেই মনে হবে ডাক্তারি পড়ার কথা। ছোটবেলা থেকে কমবেশি লিভার শব্দটি শুনেছ এবং এটি যে শরীরের অঙ্গ সেটাও জানো। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানে লিভার মানে একটি সরল যন্ত্র। যা দিয়ে সহজেই কোনো কাজ সম্পাদন করা যায়। অর্থাৎ লিভার হলো এমন একটি দণ্ড বা অবলম্বন, যা কোনো বস্তুর ওপর ভর করে মুক্তভাবে ওঠানামা করে।

লিভার কোনো ভারী বস্তুকে কম বল প্রয়োগে ওপরে তুলতে সাহায্য করে। আর দণ্ডটি  কোনো অবলম্বনের (ওপরের উদাহরণে ইট বা পাথরের টুকরো) যে বিন্দুতে ওঠানামা করে তাকে ফালক্রাম বলে। লিভারের যান্ত্রিক সুবিধা নির্ণয়ের সূত্রটি হলো—

যান্ত্রিক সুবিধা=ভার বা প্রযুক্ত বল। 

ভার, প্রযুক্ত বল ও ফালক্রামের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে লিভার তিন ধরনের হয়। যথা—

প্রথম শ্রেণির লিভার:
এ ধরনের লিভারের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত বল ও ভারের মাঝখানে ফালক্রাম থাকে। উদাহরণ : কাঁচি, সাড়াশি, নলকূপের হাতল, ঢেঁকি ইত্যাদি। ঢেঁকি তোমরা সবাই হয়তো দেখোনি। ঢেঁকির এক প্রান্তে বল প্রয়োগ করা হয়। অন্য প্রান্তে থাকে ভার। মাঝখানে ফালক্রাম। ধরো, তুমি ঢেঁকিতে চাল গুঁড়া করবে। ঢেঁকির সামনের প্রান্তের নিচে চাল রাখতে হয়। আর অন্য প্রান্তে তুমি বল প্রায়োগ করছ। ফলে সামনের প্রান্তের অংশটি চালে আঘাত করছে। ধীরে ধীরে চাল গুঁড়া হচ্ছে। আর মাঝখানে দণ্ডটির বা অবলম্বনের যে বিন্দুতে ভর করে ঢেঁকি ওঠানামা করছে তা হলো ফালক্রাম।

দ্বিতীয় শ্রেণির লিভার:
দ্বিতীয় শ্রেণির লিভারে প্রযুক্ত বল ও ফালক্রাম দুই মাথায় বা প্রান্তে থাকে এবং ভার থাকে মাঝখানে। এর অন্যতম উদাহরণ জাঁতি। তোমাদের বাসায় দাদু-নানুরা কেউ কেউ পান খেয়ে থাকেন। আর যে যন্ত্রটি দিয়ে সুপারি কাটে, ওটাই জাঁতি। নিচের কোনটি দ্বিতীয় শ্রেণির লিভার? এ রকম এমসিকিউ প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে। যখন দাদু সুপারি কাটেন লক্ষ করে দেখো। সুপারিটি রাখা হয় জাঁতির মাঝখানে। সুপারি হলো ভার। এক প্রান্তে বল প্রয়োগ করেন দাদি। অন্য প্রান্তে একটি দণ্ডকে ভিত্তি করে জাঁতি নাড়াচাড়া করানো যায়। সেটি ফালক্রাম। সুপারিকে যত বেশি ফালক্রামের কাছে রাখা যাবে, তত কম বল প্রয়োগ করতে হবে। ব্যস, দ্বিতীয় শ্রেণির লিভারের গঠনের সঙ্গে জাঁতির গঠন মিলে গেল।

তৃতীয় শ্রেণির লিভার:
এ ধরনের লিভারের ক্ষেত্রে ভার ও ফালক্রাম দুই প্রান্তে থাকে এবং বল মাঝখানে প্রয়োগ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে চিমটার কথায় আসি। চিমটা দিয়ে আমরা কোনো বস্তুকে ওপরে তুলি বা ধরে রাখি। এক প্রান্তে থাকে বস্তু বা ভার, অন্য প্রান্তে ফালক্রাম এবং মাঝখানে আঙুল দিয়ে চাপ প্রয়োগ করি। আঙুলের চাপ যত বেশি বস্তুর কাছাকাছি হবে, বস্তুটিকে আটকে রাখতে তত সহজ হবে। মাছ ধরার যন্ত্রও তৃতীয় শ্রেণির লিভারের উদাহরণ।

কোনটি কোন শ্রেণির লিভার সেটি ভালোভাবে মনে রাখবে হবে। এই লিভার থেকে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে। লিভার কাকে বলে? কয় ধরনের? প্রত্যেক প্রকারের উদাহরণসহ বর্ণনা দাও। সেই সঙ্গে নিজে নিজে নানা ধরনের লিভার নিয়ে টুকটাক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভুলবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম