লড়াকু পাখি বুলবুলি

লড়াকু পাখি বুলবুলি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪১ ১৭ ডিসেম্বর ২০২১  

লড়াকু পাখি বুলবুলি। ছবি : সংগৃহীত

লড়াকু পাখি বুলবুলি। ছবি : সংগৃহীত

এ দেশের অতি পরিচিত একটি বৃক্ষচারী পাখি ‘বুলবুলি’। গ্রামগঞ্জের ঝোপে-ঝাড়, বন-বাদারে এদের হরহামেশা দেখা মিলবে। লড়াকু পাখি হিসেবে বেশ পরিচিতি এই পাখিটি। চলুন আজ জেনে আসি বুলবুলি সম্পর্কে কিছু তথ্য।

বুলবুলি পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Pycnonotus cafer. এ পাখির ইংরেজি নাম Nightingale. এরা Pycnonotidae (পাইকনোনোটিডি) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত Pycnonotus (পাইকনোনোটাস) গণের এক প্রজাতির পাখি। বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ২৭টি প্রজাতির বুলবুলি রয়েছে। বাংলাদেশে ১১ প্রজাতির বুলবুলি দেখা যায়। বুলবুলি, ছাইরঙা বুলবুলি, কালো বুলবুলি, সবুজ বুলবুলি, হলদে বুলবুলি, কালোমাথা বুলবুলি, পাহাড়ি বুলবুলি ইত্যাদি।

বুলবুলি পাখি পূর্ব, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় পাখি। আফ্রিকার অধিকাংশ অঞ্চল, মধ্য প্রাচ্য, ক্রান্তীয় এশিয়া হতে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এবং উত্তরে জাপান পর্যন্ত এদের বিচরণ লক্ষ করা যায়। এই পাখিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ সেন্টিমিটার। ডানা ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঠোঁট হয় দুই সেন্টিমিটার। লেজের পরিমাপ ৯ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। এবং পা ২ দশমিক ২ সেন্টিমিটার। একেকটি বুলবুলি পাখির ওজন প্রায় ৪২ গ্রাম।

লড়াকু পাখি বুলবুলি। ছবি : সংগৃহীত

বুলবুলি পাখির সাধারণত বাদামী রঙের হয়ে থাকে। মাথার কালো ঝুঁটি দেখে খুব সহজেই এদের শনাক্ত করা যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির মাথা কালো বা কালচে বাদামী রঙের হয়ে থাকে। বাদামী দেহের শেষাংশ ও ডানার প্রান্ত কালচে বাদামী রঙের হয়ে থাকে। পেট অপেক্ষাকৃত ফিকে বাদামী রঙের হয়। দেহতলে এবং কখনো কখনো উপপ্রজাতি ভেদে পিঠে মাছের আঁশের মতো ফিকে দাগ থাকে। পাখিটির পালক লম্বা, কোমল এবং ফোলানো। এদের ঠোঁট সামান্য বাঁকা। বুলবুলি পাখির পা খাটো এবং দুর্বল। দেহের তুলনায় লেজ অপেক্ষাকৃত লম্বাকৃতির। পাখির ঘাড়ে লোমসদৃশ পালক রয়েছে। এদের ডানা খর্বকায় এবং গোলাকার। পুরুষ ও স্ত্রী বুলবুলি পাখি দৃশ্যত প্রায় অভিন্ন। পাখিটির ডাক অর্থ্যাৎ গলার স্বর খুবই মধুর। বুলবুলি প্রচুর লড়াকু পাখি। লড়াইবাজ পাখি হিসেবে দুনিয়াজোড়া এর খ্যাতি রয়েছে। এক বুলবুলির সঙ্গে অন্য বুলবুলির ঝগড়া বা মারামারি দেখলে বুঝবেন, এদের লড়াই করার দক্ষতা।  

লড়াকু পাখি বুলবুলি। ছবি : সংগৃহীত

বুলবুলির প্রধান খাদ্য ফল, ফুলের নির্যাস এবং ছোট ছোট পোকামাকড়। ঝোপঝাড় ও গাছের পাতায় এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। বুলবুলি পাখি গাছের ডাল, পাতার ঝোপ বা নিচু গাছে মাটির কাছে বাসা বানায়। ডিম পাড়ার মাধ্যমে এই পাখি বংশবিস্তার করে। স্ত্রী পাখি ডিম পাড়ে এবং ডিমে তা দেয়। একটি স্ত্রী বুলবুলি পাখি একবারে দুই থেকে পাঁচটি ডিম দেয়। ১০-১৫ দিন ডিমে তা দেওয়ার পর বাচ্চা ফুটে। বাচ্চা ফুটলে মা পাখি এবং বাবা পাখি দুইজনেই বাচ্চার জন্য খাদ্য জোগাড় করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি