ভৈরবে বালতির পানিতে শিশুর লাশ, রহস্য উদঘাটন

ভৈরবে বালতির পানিতে শিশুর লাশ, রহস্য উদঘাটন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১১ নভেম্বর ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আয়ানের বয়স ছিল মাত্র ১৬ দিন। ইদ্রিস মিয়া ও সাকিলা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান ছিল আয়ান। বাবা পেশায় টিভি মেকানিক।

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার ৫ নভেম্বর দুপুরে ভৈরব শহরের কালিপুর মধ্যপাড়া এলাকায়। ঘটনার দিন শিশুটিকে শৌচাগারের বালতির পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি প্রচার করা হয় ঘুমন্ত মায়ের কোল থেকে শিশুটিকে কে বা কারা নিয়ে বালতির পানিতে ফেলে হত্যা করেছে। তারপর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে এবং ওই দিনই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয় রহস্যের। মঙ্গলবার গত ৯ নভেম্বর রাতে মৃত্যু শিশুটির বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হলে ঘটনার ৫ দিন পর বের হয়ে আসে শিশুটির মৃত্যুর আসল রহস্য।

জানা যায়, মা সাকিলা বেগম শিশু সন্তান আয়ানকে শুক্রবার দুপুরে গোসল করাতে শৌচাগারে নিয়ে যান। এ সময় মা সাকিলার অসাবধানতার কারণে হঠাৎ হাত থেকে শিশু আয়ান পানি ভর্তি বালতিতে পড়ে যায়। পরে তৎক্ষণাৎ মা শিশুটিকে পানি ভর্তি বালতি থেকে তুলে নিয়ে দেখতে পান শিশুটির প্রাণ নেই। তারপর স্বামী ও শাশুড়ির ভয়ে মা সাকিলা শিশুটিকে বালতির পানিতে রেখে রুমে চলে যান। ঘটনাটির সময় কেউ কাছে ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর মা সাকিলা নাটক সাজিয়ে বলেন, আমি সন্তানকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুমন্ত অবস্থায় কে বা কারা আমার সন্তানকে কোল থেকে নিয়ে বালতির পানিতে ফেলে দেয়।
এই মিথ্যা নাটকে স্বামী ও শাশুড়িও যোগ দেন। সাকিলার ওই মিথ্যা নাটকের সঙ্গে সামিল হয়ে তারাও নাটক করেন।

অবশেষে ওই নাটকের অবসান ঘটিয়ে পুলিশের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন শিশুটির বাবা-মা। ঘটনার বিবরণ শুনে পুলিশও অবাক হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, ঘটনার ৫ দিন পর মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়। এ সময় শিশুটির বাবা ইদ্রিছ মিয়া বলেন, আমার স্ত্রীর ভুলের কারণে আমার সন্তান মারা গেছে। সে ভয়ে এতদিন সত্য কথা বলেনি।

পরে সে আমাকে জানায়, শিশুটিকে গোসল করানোর সময় অসাবধানতাবশত বালতির পানিতে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। তারপর নিজের ভুল ঢাকতে ভয়ে সে বলেছিল কে বা কারা শিশুটিকে বালতিতে ফেলে হত্যা করে।

এ সময় থানায় স্বামীর সঙ্গে তার স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তিনিও এ সত্য ঘটনাটি ওসির কাছে স্বীকার করেন।

ওসি মো. শাহিন বলেন, আমি দুজনের কথা শুনে হতবাক হয়েছি। তবে শিশুটিকে মা হত্যা করেনি একথা সত্য। শিশুটির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে