দোষ স্বীকার করে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জবানবন্দি

দোষ স্বীকার করে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৫ ১৮ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৭:১৭ ১৮ আগস্ট ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশান থানার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীর দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিন এ মামলায় রিমান্ড শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ২৯ জুলাই রাত ৮টার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডের বাসভবনে অভিযান চালায় র‍্যাব। এসময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।

আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গত ৩০ জুলাই গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার পাঁচদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে গত ৩ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রাজধানীর গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ১০ দিন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পাঁচদিন এবং পল্লবী থানায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ও প্রতারণার মামলায় সাতদিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান পল্লবী থানায় দুই মামলায় আটদিন এবং ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসী গুলশান থানার দুই মামলায় ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর অনলাইন ভার্চুয়াল জগতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন সংস্থাকে কটূক্তি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাসহ মিথ্যা তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু হয়।

এরপর গত ২৯ জুলাই র‍্যাব জানতে পারে, আসামি গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। তাকে গ্রেফতার না করলে আত্মগোপনসহ দেশ ত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। 

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার পল্লবী থানার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের  মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমানের আদালত দুই হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে অন্য তিন মামলায় গ্রেফতার থাকায় হেলেনা জাহাঙ্গীর মুক্তি পাচ্ছেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ