হাঁপানি রোগের লক্ষণ ও সতর্কতা

বিশ্ব হাঁপানি দিবস আজ

হাঁপানি রোগের লক্ষণ ও সতর্কতা

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৫৯ ৭ মে ২০২১   আপডেট: ১১:০০ ৭ মে ২০২১

হাঁপানির লক্ষণ ও সতর্কতা । ছবি: সংগৃহীত

হাঁপানির লক্ষণ ও সতর্কতা । ছবি: সংগৃহীত

হাঁপানি একটি শ্বাসকষ্ট সম্বলিত রোগ। যার মূল লক্ষণ হলো শ্বাস কষ্ট ও সাঁসাঁ শব্দে নিঃশ্বাস ফেলা। হাঁপানি আক্রমণের সময় শ্বাসনালীর আস্তরণ ফুলে যায়, যার ফলে শ্বাসনালী এতটাই সংকীর্ণ হয়ে যায় যে প্রশ্বাস ও নি:শ্বাসে শ্বাসবায়ুর গতি অনেকটাই কমে যায়। 

হাঁপানির সঠিক কারণ অজানা। তবে বংশগত ও পরিবেশগত কিছু কারণকে দায়ী করা যায়। নিকটাত্মীয় কারও হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে এই অসুখের ঝুঁকি বেশি। আপনার সন্তানের হাঁপানি আছে কিনা, কীভাবে বুঝবেন? কিছু লক্ষণ ও তার প্রতিকার খেয়াল করুন- 

হাঁপানির কারণ
হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণ এখনও অজানা হলেও মূলত জিনগত ও পরিবেশগত কারণেই ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে হাঁপানিতে আক্রান্ত হয় মানুষ। যেগুলো থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল-

>> ঘরের বিছানা, কার্পেট, আসবাবে জমে থাকা ধুলো। 

>> সি ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।

>> অফিসে ব্যবহৃত রাসায়নিক। 

>>  ঠাণ্ডা বাতাস হাঁপানির তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে।

>> অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও উঠতে পারে হাঁপানির টান। 

হাঁপানির লক্ষণ
হাঁপানি ধরা পড়ার আগে দেখা দেয় কিছু লক্ষণ। যেমন-

>> কাশি-রাতে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে অনবরত কাশির সমস্যা।

>> নাকে সোঁ সোঁ শব্দ হওয়া-শ্বাস-প্রশ্বাসে সোঁ সোঁ শব্দ হওয়া। বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে বাড়ে এই আওয়াজ।

>> বুক শক্ত হয়ে ওঠা-বুকের মধ্যে চাপ বা ভারী ভাব অনুভব করা। 

>> শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হয়ে আসা- অনেক সময় মনে হয় শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হয়ে আসছে বা ফুসফুস প্রয়োজনমতো অক্সিজেন ভরতে পারছে না।

নিম্নে হাঁপানি রোগীদের জন্য কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ দেয়া হলো
>> যাদের হাঁপানি, অ্যালার্জি আছে, তারা ঠাণ্ডা উপভোগ করতে যাবেন না। ঠাণ্ডায় বের হলে পরিষ্কার স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন। বাইরে বের হওয়ার আগে আপনার নীল রঙের ইনহেলার দুই চাপ ব্যবহার করে নিতে পারেন। বেশি সময় বাইরে থাকতে হলে ইনহেলারটা সঙ্গেই রাখুন।

>> শিশুরা অনেক সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। মুখ দিয়ে নেয়া শ্বাস শুষ্ক এবং শ্বাসতন্ত্র আরো সংকুচিত করে তোলে। অন্যদিকে নাক দিয়ে নেয়া শ্বাস উষ্ণ এবং আর্দ্র, ধোঁয়া-ধুলা ইত্যাদি ফিল্টার হয়ে আসে। তাই মুখে শ্বাস নেবেন না। শিশুদের বন্ধ নাক সব সময় স্যালাইন ড্রপ দিয়ে পরিষ্কার করে দিন।

>> ধূমপান নিষেধ। এমনকি পাশের ব্যক্তির ধূমপানও আপনার সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ঠাণ্ডা খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলুন।

>> এমনকি রান্নার ধোঁয়াও শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। বাড়িতে কিচেনভেন্ট ব্যবহার করা ভালো। ঘর ধোঁয়ামুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। মশার কয়েলও জ্বালাবেন না।

>> ব্যায়ামের আগে ১০ মিনিট ওয়ার্ম-আপ করে নিন এবং প্রয়োজনে নীল রঙের ইনহেলার দুই চাপ নিয়ে শুরু করুন। অতিরিক্ত শীতে বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতর ব্যায়াম সেরে নিন।

>> সর্দি হলে নাক মুছতে রুমাল নয়, পেপার টিস্যু ব্যবহার করুন। নাক, চোখমুখে ঘন ঘন হাত লাগাবেন না। সর্দি ঝাড়ার পর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। সর্দি-কাশি-ফ্লু-আক্রান্তদের থেকে দূরে থাকা ভালো।

>> হাঁপানি রোগীরা শীতের শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি বছর ফ্লু-ভ্যাকসিন নিতে পারেন।

>> বাড়িতে কুকুর, বিড়াল বা পোষা পাখি শোয়ার ঘর থেকে দূরে রাখুন। ঘরের আসবাব শুষ্ক রাখুন, ধুলা জমতে দেবেন না। আপনার ইনহেলার, ওষুধ, নেবুলাইজার ইত্যাদি রসদ পর্যাপ্ত ও কার্যকর আছে কিনা খেয়াল করুন। পরিবারের সবাইকে এগুলোর স্থান ও ব্যবহারপদ্ধতি অবহিত করুন। বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার পরও শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে অবশ্যই হাসপাতালে চলে যাবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ