তৃতীয় লিঙ্গের চাঁদা আদায় বন্ধে প্রশাসনের প্রতি গুরুমাতাদের অনুরোধ

তৃতীয় লিঙ্গের চাঁদা আদায় বন্ধে প্রশাসনের প্রতি গুরুমাতাদের অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৯ ২৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ২০:৩৬ ২৫ মার্চ ২০২১

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন তৃতীয় লিঙ্গের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত গুরুমাতারা।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন তৃতীয় লিঙ্গের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত গুরুমাতারা।

প্রতিদিন বাস, সিগনাল, ফেরি, পার্কসহ নানা স্থানে মানুষের কাছ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের চাঁদা আদায় বন্ধে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন গুরুমাতারা।  

তারা জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রতি মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়ছে। এ দৃষ্টিভঙ্গি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে। সেজন্য গুরুমাতারা চাঁদা নেয়া বন্ধের চেষ্টা চালিয়েও পারছেন না। তাই চাঁদা আদায়কারী তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অনুরোধ করেন গুরুমাতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ তৃতীয় লিঙ্গের গুরুমাতাদের পক্ষে রাখি শেখ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আমরা যারা তৃতীয় লিঙ্গের তাদেরও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। আমরা যারা তৃতীয় লিঙ্গের তারাও এখন কর্মমুখী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচিতি পেলে নিজ পরিবার বা সমাজ আমাদের আলাদা চোখে দেখে। পরিবার, প্রতিবেশী অথবা সমাজে অবহেলিত হলে একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে আশ্রয় দেন একই লিঙ্গের বয়স্ক মানুষ; যিনি গুরুমা হিসেবে পরিচিত। গুরুমাই অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ভরণ-পোষণসহ ভালো-মন্দের দেখাশুনা করেন। 

এখন আমরা যারা এখানে গুরুমা আছি, আমাদের আশ্রয়ে যারা আছে, আমরা তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রত্যেকে যে কাজে আগ্রহী বা পারদর্শী তাকে সেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। কেউ পোশাক তৈরির কাজ করছে, কেউ পার্লারে কাজ করছে।

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এখন নিজ পায়ে দাঁড়াতে শিখছে উল্লেখ করে রাখি বলেন, সরকারি-বেসরকারি নানা শ্রেণির মানুষ আমাদের প্রতি পুরনো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসেছেন। আমাদের প্রতি অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের কমিউনিটির বেশির ভাগ মানুষ যখন জীবনমান উন্নয়নে কর্মমুখী পথে অগ্রসর হচ্ছে ঠিক তখনই একটি চক্র আমাদের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে রাখি শেখ বলেন, আমরা পাবলিক পরিবহনে মানুষদের বিরক্ত করে চাঁদা তোলার বিপক্ষে। মাদক বিক্রি, ছিনতাই, চুরি, যৌনকর্মের সমর্থন করি না। যারা এ ধরনের কাজ করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা চাই না, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হোক। আমরা আমাদের পরস্পরায় পাওয়া যেমন: বিয়ের অনুষ্ঠান, বাচ্চা নাচানো, বিভিন্ন উৎসবে মানুষকে খুশি করে যা পাই তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আমাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আমাদের স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করছেন। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। যার ফলে আমরা সমাজের অবহেলা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরাও সমাজের অন্য দশজন মানুষের মত স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে থাকতে চাই। গুরু পরম্পরায় যেটা শতবছর হয়ে আসছে সেটা করতে চাই। যারা বাস, সিগনাল, ফেরি নাইটে মানুষকে বিরক্ত করার মাধ্যমে জোর করে টাকা নিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন গুরুমাতা আসমানী, বকুল হাজী, রনি হাজী, আনোয়ারি, কাজল, কচি হাজী, পলি, সামিমা, রশিদা , রাশিদা, সারিকা, স্বপ্না, সুমি প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ