বই আনতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার মাদরাসাছাত্রী, গ্রেফতার ২

বই আনতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার মাদরাসাছাত্রী, গ্রেফতার ২

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৪ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:৪৪ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ধর্ষক আদিল ও মুহিবুর রহমান

ধর্ষক আদিল ও মুহিবুর রহমান

সিলেটে বই আনতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন নবম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রী। ধর্ষণের পর অপহরণ নাটক সাজিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ধর্ষকরা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের মোগলাবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই কিশোরী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার পাশবিক নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

গ্রেফতার দুইজন হলেন জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার মাতাবপুর গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে মুহিবুর রহমান ও জালালাবাদ থানার খালপাড় গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে আদিল। 

জানা যায়, ওই দিন সকালে মোগলাবাজার এলাকায় মাদরাসা থেকে বই আনতে যাওয়ার সময় ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সিএনজি অটোরিকশা চালক মুহিবুর রহমান। পরে ওই কিশোরীকে সিলেটের জালালাবাদ থানার খালপাড়স্থ আদিলের দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে পালক্রমে ধর্ষণ করে আট যুবক। রাত তিনটা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণের এক পর্যায়ে ওই কিশোরী অচেতন হয়ে পড়ে। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই কিশোরীর কাছ থেকে তার বাবার নম্বর নিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। 

কিশোরীর বাবা ওই নম্বর নিয়ে মোগলাবাজার খোঁজ করলে অন্যান্য সিএনজি চালকরা মুহিবুর রহমানের বাড়ির ঠিকানা দিলে তিনি ওইখানে যান। যাওয়ার পর তার আত্মীয় স্বজনদের চেষ্টায় মুহিবুর রহমান কিশোরীর অবস্থান জানান। এরই মধ্যে মুহিবুরের বাড়ি বিশ্বনাথে খবর গেলে বিশ্বনাথ পুলিশের এক দল রোববার ভোর ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ সময় মুহিবুর ও আদিলকে গ্রেফতার করে। 

কিশোরীর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কিশোরীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হলে চিকিৎসকরা তাকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করেন। এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত মুহিবুর রহমান ও আদিলকে গ্রেফতার করা গেলেও তার সঙ্গী বাকি ছয়জন এখনও পলাতক রয়েছেন। 

বাকি ছয়জন হলেন বিশ্বনাথ উপজেলার সালাম মন্টু, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার টিটু মিয়া, আনহার মিয়া, টেরাই মিয়া, বাবুল মিয়াও আরব আলীা। 

জালালাবাদ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, শনিবার এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা নিশ্চিত করেছেন ওই কিশোরী। এই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার  করা হয়েছে। 

জালালাবাদ থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে মোগলাবাজারে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে যাবতীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এই ঘটনায় ৬ জন পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে