সবার প্রত্যাশা পূরণের ওয়াদা করেছি: তৃতীয় লিঙ্গের কাউন্সিলর দিথী

সবার প্রত্যাশা পূরণের ওয়াদা করেছি: তৃতীয় লিঙ্গের কাউন্সিলর দিথী

আহসানুর রহমান রাজীব, সাতক্ষীরা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৮:০৭ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমাজে আমাদের অন্য নজরে দেখা হয়। আমরাও মানুষ, আমাদেরও আবেগ-অনুভূতি আছে। সুযোগ পেলে আমরাও মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। অনেক আশা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম, জনগণ আমাকে হতাশ করেনি। আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

এভাবেই নিজের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর তৃতীয় লিঙ্গের দিথী খাতুন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ১৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

দিথী খাতুন বলেন, মানুষ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি মানুষের জন্যই কাজ করব। এলাকার অনেক মানুষ ঠিকমতো সেবা পান না। যাদের বিধবা, বয়স্ক, শিশু কার্ড হওয়ার দরকার তারা বঞ্চিত হয়েছেন। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার করুণ অবস্থা। এলাকার মানুষ সঠিক সেবা পায় না। তারা অনেক আশা নিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে। আমি সবার প্রত্যাশা পূরণের ওয়াদা করেছি।

তিনি আরো বলেন, অনেকে চায় না আমার মতো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সমাজের মূল ধারায় ফিরুক। জনপ্রতিনিধির মতো দায়িত্বে আসতে কম ঝুঁকি নিতে হয়নি। গত নির্বাচনে আমাকে ষড়যন্ত্র করে সামান্য ভোটে হারানো হয়েছিল। এবারো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে, অপমান-অপদস্ত করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে নির্বাচনের মাঠে থাকতে হয়েছে। নির্বাচনের দিনও এক প্রভাবশালী নেতা আমার বিপক্ষ প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাকে বিজয়ী করার ষড়যন্ত্র করেন। তবে জনগণ এবার বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছে। প্রশাসন আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
 
পৌরসভা নির্বাচনে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী তৃতীয় লিঙ্গের দিথী খাতুনকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ভিন্ন মাত্রার উৎসাহ উদ্দীপনা ও কৌতূহল তৈরি হয়। তাকে নিয়ে মানুষের ছিল ভীষণ আগ্রহ। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি। পরাজয় বরণ করেও দমেননি। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর জনগণের পাশে থেকেছেন।

দিথীর বিজয়ে খুশি তার সম্প্রদায়সহ স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, অনেক আশা নিয়ে এবার তাকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছে এলাকার মানুষ। তিনি উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা রক্ষা করতে পারলে আগামীতে আবারো জনগণ তাকে নির্বাচিত করবে।

শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজের মূলধারার ফিরে আসার ক্ষেত্রে দিথী উজ্জ্বল উদাহরণ। সবার উচিত তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়া।  

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের এ সমাজের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সবার উচিত দিথী খাতুনকে সহযোগিতা করা।

এর আগে, ২০১৯ সালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী সাদিয়া আক্তার পিংকি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর