পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চুল কেটে আগুনে পোড়াল স্বামী

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চুল কেটে আগুনে পোড়াল স্বামী

ভোলা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৪ ২৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৬ ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

দৌলতখান থানা, ভোলা

দৌলতখান থানা, ভোলা

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর করে ও মাথার চুল কেটে আগুনে পড়িয়ে দিয়েছে স্বামী। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বোরহানউদ্দিনের দারুস সুন্নাত মডেল মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
 
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আট মাস আগে সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী গ্রামের সাইফুল ইসলামের সঙ্গে দৌলতখান উপজেলার লেজপাতা গ্রামের মফিজুল ইসলামের কামিল পড়ুয়া মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর কর্মস্থল বোরহানউদ্দিনে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। বর্তমানে খাদিজা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

খাদিজা জানান, বিয়ের আগে থেকেই তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। পরকীয়ায় বাধা দিলে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খাদিজাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে আগুনে পুড়িয়ে দেন সাইফুল। পরে ঘরে তালা মেরে মাদরাসায় চলে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান খাদিজা।

খাদিজার মা মনোয়ারা বেগম জানান, মেয়েকে অনেক কষ্টে পড়াশোনা করিয়েছেন। আলেম দেখে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মেয়ের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করা হতো এটা তারা জানতেন না। সাইফুলের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
 
সাইফুলের বাবা তৈয়বুর রহমান জানান, ছেলে তাকে বলেছে খাদিজা রাগ করে চলে এসেছে। পরে পুরো ঘটনা জানতে পেরে ছেলের বিচার চেয়েছেন তিনিও।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই মোবাইল বন্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে গেছেন অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম।

দৌলতখান থানার ওসি বজলার রহমান জানান, খবর পেয়ে ভিকটিমকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে পার্শ্ববর্তী বোরহানউদ্দিন থানায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর