টাকার জন্য হিশাম আমাকে শারীরিক নির্যাতন করত: তমা মির্জা

টাকার জন্য হিশাম আমাকে শারীরিক নির্যাতন করত: তমা মির্জা

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৪ ২০ ডিসেম্বর ২০২০  

তমা মির্জা-হিশাম চিশতী

তমা মির্জা-হিশাম চিশতী

২০১০ সালে ‘বলো না তুমি আমার’ ছবিটির মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন ঢাকাই সিনেমার পরিচিত মুখ তমা মির্জা। তারপর বেছে বেছে নিজের পছন্দ মতো বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন তমা। ২০১৫ সালে ‘নদীজন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রের অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার জিতেন তিনি।  

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক হিশাম চিশতীর সঙ্গে ২০১৯ সালের ৭ মে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তমা মির্জা। পারিবারিকভাবে হিশামের সঙ্গে তমার পরিচয়। শুরুতে তমার দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। দুবাইয়ে হানিমুনও করেছিলেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ছবি শেয়ার করেছেন এ অভিনেত্রী। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের মনোমালিন্যের খবর পাওয়া গেছে।

এখন আর একসঙ্গে থাকছেন না তমা ও হিশাম। বিভিন্ন কারণে বাবার বাড়িতেই থাকছেন তমা মির্জা। এরই মধ্যে নায়িকা তমা মির্জা এবং তার স্বামী হিশাম চিশতি পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ৫ ডিসেম্বর রাত ৩টায় রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলা করেন তমা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং যৌতুক জন্য মারপিটসহ হুমকি প্রদানের অপরাধে মামলাটি করেছেন তিনি। আর ৬ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন হিশাম।

হিশামের করা মামলায় তমা মির্জাসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, তমা মির্জা শুধু হিশাম চিশতীকেই আসামি করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলা করেই কানাডা চলে গেছেন তমার স্বামী হিশাম।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, হিশাম একজন সাইকো, মানসিক রোগী। কোনো কিছু সে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। বিয়ের পর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক অত্যাচার করেছে। শারীরিক নির্যাতনও করত টাকার জন্য। আমার উপার্জনের টাকা কেন আমি আমার বাবা-মাকে দেই তা নিয়ে ওর ব্যাপক সমস্যা। আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে সে। হাত খরচের টাকা দিতে না পারলেই আমাকে মারধর করত।

হিশাম চিশতীর করা মামলার এজাহারে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে উল্লেখ করে তমা মির্জা বলেন, ও জাস্ট মামলা করেই চলে গেছে। আমার মনে হয় ওর মামলার কোনো ভিত্তি নাই। আমরা যদি ওকে মারধর করতাম তাহলে ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ ডাকতাম? সেদিন রাতে (৫ ডিসেম্বর) আমি ৯৯৯ ফোন করে পুলিশ ডেকেছি। এ কারণেও আমাকে মার খেতে হয়েছে। পুলিশ আসার পর ও রুম থেকে বের হচ্ছিল না। এক পর্যায়ে পুলিশ যখন লিফট দিয়ে নামছিল তখন হিশাম আমাদের সঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামছিল। সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সে আমাকে মেরেছে। আব্বু-আম্মুকেও মেরেছে। তখন আমরা প্রতিহত করতে গেলে সে আঘাত পেয়েছে।

এখন তাহলে কোন পথে হাঁটবেন? জানতে চাইলে এ অভিনেত্রী বলেন, পাগলের সঙ্গে সংসার করা সম্ভব না। আমি মামলা করার পর বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটি আর সম্ভব না। আমি আইনগতভাবে এগিয়ে যাব।

এদিকে তমার করা মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে বলেন, কাউন্টার মামলা হয়েছে। তমা মির্জা আগে করেছেন। তারপর করেছেন হিশাম চিশতী। তমার মামলায় যেহেতু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে তাই আমরা হিশামের মোবাইল ফোন ফরেনসিকে পাঠিয়েছি। দুটি মামলাই তদন্তে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ