শেষ দিনে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় 

শেষ দিনে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় 

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১৯ ১৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১১:২১ ১৪ অক্টোবর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মা ইলিশ রক্ষায় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে মোট ২২ দিন ইলিশ মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে। 

নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে কমপক্ষে ১ বছর থেকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। 

মঙ্গলবার বরিশাল পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে আড়ৎদার, কমিশন এজেন্ট, খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতাদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।

কয়েক দিন থেকেই মোকামে ইলিশের আমদানি তেমন একটা ভালো না থাকলেও শেষ দিনে সরকারের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুদ থেকে বিরতি নিয়েছেন তারা। 

শেষের দিনে মোকামে ইলিশের খুচরা ও পাইকারী দাম তুলনামূলক কম ছিলো বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে সকাল থেকেই ইলিশ কিনতে পোর্ট রোড বাজারে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,  গত ১৫-২০ দিন থেকেই ইলিশ মোকামে মাছের আমদানি অনেকটাই কম। নদীতে মাছ কম থাকায় এ অবস্থা হচ্ছে বলে জানান তারা। মোকামে ফিসিং মাছ বা সামুদ্রিক ইলিশের আমদানি বেশি। বরিশাল ইলিশ মোকামে নিষেধাজ্ঞার শুরুর আগ দিন পর্যন্ত জেলার মেহেন্দিগঞ্জ, শ্রীপুর, ভোলা, ভেদুরিয়া, ইলিশা, লালমোহন, শ্যামরাজ, নুরাবাদ সহ বিভিন্ন নদী থেকে ইলিশ এসেছে। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তবে এ সব নদী থেকে যে পরিমাণ ইলিশ এসেছে তার থেকে অনেক বেশি এসেছে সমুদ্র থেকে। বর্তমানে নদীতেই মাছের পরিমাণ কম। তাই জেলেদের জালে তেমন মাছ পড়ছে না বলে জানিয়েছে আড়ৎদাররা। 

গত ১৫-২০ দিনে নদী ও সামুদ্রীক ইলিশ মিলিয়ে মোকামে ৫০০ থেকে ৭০০ মণ ইলিশ আমদানি হয়েছে। 

দামের বিষয়ে আড়ৎদাররা জানান, ঝাটকা (২০০-৪০০ গ্রাম) ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার টাকায়। ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের আভ্যন্তরীণ নদীর ইলিশ মণ প্রতি ২২-২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই সাইজের ফিসিং ইলিশের মণ বিক্রি হয়েছে ১৮-১৯ হাজার টাকায়। ৯০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত সাইজের ইলিশ আভ্যন্তরিণ নদীর মণ প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার টাকায়। একই সাইজের ফিসিং ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার টাকায়। 

নিষেধাজ্ঞার আগে ইলিশের এই দামকে একরকম হতাশা পানির দাম বলে দাবি করেছেন আড়ৎদাররা। খুচরা বাজারে ৫০০-৭০০ গ্রাম ইলিশের কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা দরে। গ্রেড সাইজের ইলিশের কেজি ছিল ১ হাজার টাকার মধ্যে। এজন্য মাছ কিনতে সৌখিন ক্রেতাদের ভিড় জমে। 

আগামী ২২দিন ইলিশ মিলবে না তাই একটু বেশি করেই কিনে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক খুচরা ক্রেতা। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তারা বলেছেন, তুলনামুলক দাম কম তাই কিনতে ভিড় উপেক্ষা করেও এসেছেন তারা। অন্যদিকে আগামী ২২দিন নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়বে মোকামে কর্মরত ইলিশ সংশ্লিষ্ট ৪-৫ হাজার শ্রমিক। তারা এই ২২ দিন সাধ্যমত অন্যান্য কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের চেষ্ঠা করবেন বলে জানিয়েছেন। 

নিষেধাজ্ঞার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য আগামী ২২দিন কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা। 

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যিক বিষয় সম্পাদক ও বরিশাল মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল জানান, আগামী ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা শতভাগ পালন করবেন তারা। এ সময় কেউ যেন এই নির্দেশনা অমান্য করতে না পারে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তারাও তৎপর থাকবেন। মা ইলিশ রক্ষার সরকারের এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানান তিনি। 

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ এই সময়ে প্রতি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিনামূল্যে দেয়া হবে। সেই অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৪১ উপজেলায় দুই লাখ ৮২ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের জন্য পাঁচ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

এর মধ্যে বরিশালে ৪৭ হাজার জেলে পরিবারকে ৯৪০ মেট্রিক টন, পিরোজপুরে ১৭ হাজার জেলে পরিবারকে ৩৪০ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ৫৮ হাজার জেলে পরিবারকে এক হাজার ১৬০ মেট্রিক টন, ভোলায় ১ লাখ ২০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, বরগুনায় ৩৭ হাজার জেলে পরিবারকে ৭৪০ মেট্রিক টন ও ঝালকাঠি জেলায় তিন হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের জন্য ৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

মৎস্য অধিদফতর বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার জানান, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ মৌসুমে কেউ মাছ আহরণে নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

প্রতিটি উপজেলায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল পাবেন। প্রতিটি উপজেলার ইউএনও এসব চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত জেলেদের ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেয়া হবে । 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে