শিক্ষিকা সৎমায়ের বর্বর নির্যাতনে পাগলপ্রায় কিশোরী

শিক্ষিকা সৎমায়ের বর্বর নির্যাতনে পাগলপ্রায় কিশোরী

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১১ ১৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:১৮ ১৩ অক্টোবর ২০২০

শরীরে সৎমায়ের খুন্তির ছ্যাঁকা

শরীরে সৎমায়ের খুন্তির ছ্যাঁকা

কুমিল্লার চান্দিনায় ইসরাত জাহান তিথি নামে এক কিশোরীকে খুন্তির ছ্যাঁকাসহ অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার সৎমা স্কুলশিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন তিথি।

নির্যাতনের শিকার তিথি দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা গ্রামের জামাল হোসেনের মেয়ে। চলতি বছরের শুরুর দিকে জামাল অনৈতিক কাজে জড়িয়ে কারাগারে থাকায় চান্দিনার ভাড়া বাসায় প্রতিনিয়ত তিথিকে নির্যাতন করতেন সৎমা।

শরীরে অসংখ্য ক্ষত নিয়ে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিথি। বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই গা-ঢাকা দেন সৎমা মাহমুদা সুলতানা লাভলী। তিনি দেবীদ্বার উপজেলার প্রেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এ ঘটনায় সোমবার রাত ১টায় চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন তিথির খালু সামছুল হক ভূঁইয়া।

জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী আমেনা খাতুনের মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে স্কুলশিক্ষিকা লাভলীকে বিয়ে করেন জামাল হোসেন। এরপর থেকে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে চান্দিনায় বাসা ভাড়ায় থাকেন।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যান জামাল হোসেন। বাবা কারাগারে থাকায় তিথি ও মুছা সৎমায়ের সঙ্গে থাকছিলেন। বাবার অবর্তমানে তুচ্ছ বিষয়ে তিথির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন সৎমা লাভলী। কথায় কথায় মারধর, দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা, খুন্তির ছ্যাঁকাসহ অমানুষিক নির্যাতন চলে তার ওপর।

১ অক্টোবর কাজ করতে না পারার অযুহাতে তিথিকে বেধড়ক পিটিয়ে গায়ে খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেন লাভলী। এতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিথি। পরদিন খালু সামছুল হক ভূঁইয়া এসে চান্দিনার রূপনগরের ভাড়া বাসা থেকে তিথিকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে সোমবার খালাতো বোন তিথির শরীরে ক্ষতর চিহ্ন দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আজিজুল ইসলাম তিথিকে উদ্ধার করে বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী চান্দিনা থানায় নিয়ে যান।

তিথির খালাতো ভাই নাছিমুল হাসান ভূঁইয়া বলেন, তিথিকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা জানতাম না। আমরা তিথিকে আমাদের বাসায় আনার পর বিষয়টি জানতে পারি।

তিথির চাচি বরকামতা জাগরণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রওশন আরা আক্তার বলেন, আমার কাছে থাকা অবস্থায়ও তিথি সুস্থ ছিল। কিন্তু গত ৮-৯ মাসের নির্যাতনে সে মানসিন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।

চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, আহত তিথিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শিশু নির্যাতন দমন আইনে চান্দিনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তিথির সৎমাকে গ্রেফতার করতে চান্দিনার বাসায় অভিযানে যায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লাভলী পালিয়ে যান। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর