ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু: চার পুলিশ বরখাস্ত, প্রত্যাহার ৩

ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু: চার পুলিশ বরখাস্ত, প্রত্যাহার ৩

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৩ ১২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৩ ১২ অক্টোবর ২০২০

বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। একইসঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এদিকে রোববার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

রায়হানের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুলল্লাহ জানান, রায়হান নগরীর রিকাবীবাজারে স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গাফ্‌ফারের চেম্বারে চাকরি করতেন। রায়হান বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।

গত শনিবার রাতে কর্মস্থল থেকে রায়হানের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পান। পরে ভোর রাত ৪টার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মায়ের মোবাইলে কল দিয়ে জানায়, তাকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেয়া হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর রায়হানের মা তার চাচা হাবিবুল্লাহকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফজরের নামাজের পরপরই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। এ সময় সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে অবস্থানরত এক পুলিশ সদস্য হাবিবুল্লাহকে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা, আপনি ৫ হাজার এনেছেন কেন, এখন চলে যান, রায়হান ঘুমাচ্ছে।

এছাড়া রায়হানকে যে কর্মকর্তা ধরে এনেছেন তিনিও এখন ফাঁড়িতে নেই। সকাল ৯টার দিকে আসবেন।’ তার কথামতো হাবিবুল্লাহ সকাল ৯টার সময় আবার ফাঁড়িতে যান। এ সময় ফাঁড়িতে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তখন হাবিবুল্লাহ দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে মর্গে রায়হানের মরদেহ পান। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম