লাল-হলুদ তরমুজ পাওয়া যাবে বারোমাস

লাল-হলুদ তরমুজ পাওয়া যাবে বারোমাস

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৮:৩৮ ৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৯ ৬ অক্টোবর ২০২০

দেশের আবহাওয়া উপযোগী বারো মাস চাষাবাদ করা যায় এমন তরমুজের দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র সবজি বিভাগের বিজ্ঞানীরা। ওপেন পলিনেটেড ও হাইব্রিড জাতের তরমুজ দুটির ভেতরে (মাংসল অংশ) হলুদ ও টকটকে লাল। শিগগিরই এ দুটি জাত নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে অবমুক্ত করা হবে বলে জানান সবজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.ফেরদৌসী ইসলাম।

জাত উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বারি’র বিজ্ঞানীরা বলেন, জাত দুটি থেকে কৃষক নিজেই বীজ উৎপাদন করতে পারবে। ফলন,আকৃতি,স্বাদ ও মিষ্টতা ছাড়াও এ জাত দুটি চাষ করে কৃষক অধিক লাভবান হবে। হাইব্রিড জাত হিসেবে মুক্তায়িত হওয়ার পর ব্যাপক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলে বীজ আমদানি বাবদ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো এবং তরমুজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, ২০১৫ সালে তরমুজ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন উদ্ভাবিত তরমুজের চাষাবাদ দেশীয় অন্যান্য তরমুজের মতো। তবে প্রচলিত তরমুজের চেয়ে নতুন হাইব্রিড এ তরমুজে ফলন বেশি হয়। তরমুজের মৌসুমে প্রতিটি লাল তরমুজ ৮-১০ কেজি এবং মৌসুম ছাড়া ৪-৬ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। হলুদ তরমুজ মৌসুমে ৬-৭ কেজি এবং অমৌসুমে ৩-৪ কেজি হয়। এই তরমুজ খেতে অনেক সুস্বাদু, রোগ বালাই কম হয় হয় বলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাবে।

তরমুজ ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম বলেন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সবজি বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তরমুজের হাইব্রিড এবং ওপেন পলিনেটেড জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন উদ্ভাবিত তরমুজের বীজ আমরা দেশেই উৎপাদন করেছি। যে কারণে দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হতো সেটা বেঁচে যাবে। আর যেহেতু এটি দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে এবং দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে উপযোগী সেহেতু কৃষকদের এখানে প্রতারিত হওয়ার কিছু নেই। 

উল্লেখ্য, পটুয়াখালি আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে এ জাত দুটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এমআর