অবহেলায় ড্রয়ারে পড়ে থাকা গান্ধীজির চশমা আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি

অবহেলায় ড্রয়ারে পড়ে থাকা গান্ধীজির চশমা আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৬ ২২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২১:০৮ ২২ আগস্ট ২০২০

অবহেলায় ড্রয়ারে পড়ে থাকা গান্ধীর চশমা আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি।

অবহেলায় ড্রয়ারে পড়ে থাকা গান্ধীর চশমা আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তারই ব্যবহার করা এক জোড়া চশমা প্রায় ৫০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যের একজন বাসিন্দার বাসার ড্রয়ারে পড়ে ছিল। সেই চশমা জোড়াকে নিলামে তোলার পর আড়াই কোটি (২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড) টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছে।

শুক্রবার ছয় মিনিটের টেলিফোন নিলামে একজন আমেরিকান সংগ্রাহক চশমা জোড়া কিনে নেন। নিলামকারী অ্যান্ড্রু স্টো বলেন, ইস্ট ব্রিস্টল অকশন হাউজের জন্য এ চশমা বিক্রির ঘটনা একটা রেকর্ড।

প্রথমে চশমা জোড়ার দাম সর্বোচ্চ ১৫,০০০ পাউন্ডে (১৫ লাখ টাকারও বেশি) বিক্রির প্রত্যাশা করা হয়। তবে সেটির দাম এতো পরিমাণ হবে তা ভাবতে পারেননি বিক্রেতা।

অ্যান্ড্রু স্টো বলেন, গান্ধীর চশমা জোড়ার মালিক ব্রিটেনের ম্যাঙ্গোসফিল্ড এলাকার একজন বয়স্ক ব্যক্তি। তার বাসার একটি ড্রয়ারে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে চশমা জোড়া পড়ে ছিল। লকডাউনের সময় বাসা পরিষ্কার করতে গিয়ে চশমা জোড়া খুঁজে পান তিনি। তাদের একজন আত্মীয় ১৯২০ এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকায় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এরপর থেকে কয়েক প্রজন্ম ধরে চশমা জোড়া এই পরিবারের কাছে রয়েছে।

চশমা জোড়া খুঁজে পাওয়ার পর মালিক নিলাম করতে অ্যান্ড্রু স্টো’র নিলাম প্রতিষ্ঠানকে দেন। তিনি চেয়েছিলেন, চশমা জোড়া এমন কেউ কিনুক, যিনি চশমা জোড়ার ঐতিহাসিক মূল্য বুঝতে সক্ষম হবেন। কিন্তু তিনি ভাবতেও পারেননি যে, এর দাম এতো উঠতে পারে।

স্টো বলেন, এটা ব্যতিক্রমী একটা ফলাফল। এই চশমা জোড়া শুধু আমাদের জন্য বিক্রির রেকর্ড তৈরি করেনি, এটার আন্তর্জাতিক ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

সাদা একটি এনভেলপের ভেতরে ঢোকানো চশমা জোড়া ইস্ট ব্রিস্টল নিলাম হাউজের চিঠিপত্রের বাক্সে শুক্রবার রাত থেকে পড়ে ছিল। সোমবার সকালে খামটি খোলা হয়।

তিনি আরো বলেন, এটা খুব সহজেই চুরি হয়ে যেতে পারতো, ভেঙ্গে যেতে পারতো অথবা হয়তো আবর্জনার বাক্সেও চলে যেতে পারতো।

স্টো বলেন, এর দাম সম্পর্কে মালিকের কোন ধারণা ছিল না। যখন তাকে বলা হয় যে, এটার মূল্য হয়তো ১৫ হাজার পাউন্ড হতে পারে। তখন মালিকের 'প্রায় একটা ‘হার্ট অ্যাটাক' হতে যাচ্ছিল।

পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে এই চশমা জোড়া ড্রয়ারে পড়ে ছিল। এর মালিক আমাকে বলেছিলেন, এটা যদি বিক্রি করা না যায়, তাহলে যেন ফেলে দেয়া হয়। আর এখন তিনি জীবন বদলানোর মতো টাকা পাচ্ছেন। আর নিলাম থেকে পাওয়া টাকা মেয়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেবেন বলে জানিয়েছেন চশমা জোড়ার বিক্রেতা।

-বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ