রিফাত হত্যাকাণ্ডের এক বছর, চাকরি চান রিফাতের বোন

রিফাত হত্যাকাণ্ডের এক বছর, চাকরি চান রিফাতের বোন

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৪ ২৬ জুন ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের এক বছর আজ। গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ গেট এলাকায় নয়ন বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। 

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন রিফাতের মা। রিফাতের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, তাদের খারাপ সময়ে পাশে পায়নি কেউকে। অভাব-অনটনে দিন কাটে তাদের। তাই অভাবের সংসারের হাল ধরতে রিফাতের বোনের চাকরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

এদিকে করোনার প্রভাবে আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যায়ে এসে থমকে আছে মামলার কার্যক্রম। 

গত বছরের ২৬ জুন সকাল ১০টায় স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে কলেজে আনতে যায় স্বামী শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ। ওই দিন আগে থেকেই শাহনেওয়াজ রিফাতকে হত্যা পরিকল্পনা করে কলেজের সামনে ওঁৎ পেতে থাকে নয়ন বন্ড বাহিনী। তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে হামলা চালায় রিফাত শরীফের উপর।

এ কিলিং মিশনে প্রায় ১৫ জন সক্রিয় সদস্য দায়িত্বে থাকে হত্যাকারীদের নিরাপত্তায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই মিনিটেই শেষ হয় রিফাত হত্যার কিলিং মিশন। রিফাত শরীফ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড়ে সমালোচিত হয় পুলিশ। ওই বছরের ১ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় নয়ন বন্ড। 

হত্যার পরিকল্পনাকারী দাবি করে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকেও ওই বছরের ১৬ জুলাই গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর গ্রেফতার হয় ২৪ আসামির মধ্যে ২৩ আসামি। তবে এ মামলায় এখনো পলাতক রয়েছে নয়ন বন্ডের অন্যতম সদস্য সহযোগী মুসা বন্ড।

রিফাত শরীফকে হারানোর এক বছরেও সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি রিফাতের মা। প্রতিদিন সকাল-বিকেল ছেলের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। ছেলে হারানো শোকে মানসিকভাবে বিপর্যস্তও হয়ে পড়েছেন তিনি।

রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বলেন,পরিবারের ভবিষ্যৎকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পরেছে তারা। তাদের এ খারাপ সময়ে পাশে পায়নি কেউকে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে রিফাতের মা।

এদিকে রিফাত শরীফের বোন ইসতার জাহান মৌ বলছেন,একমাত্র ভাইয়ের মৃত্যুর পরে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাকে। তবে সরকার একটি চাকরির ব্যবস্থা করলে অসুস্থ বাবা-মায়ের সেবা করতে পারতেন তিনি।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আইনজীবী এম মজিবুল হক কিসলু বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় স্ত্রী মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনসহ ২৪ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি চার্জশিট দেয় পুলিশ। প্রাপ্ত বয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় ৭৬ জন সাক্ষী। আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৭৫ জন এখন শুধু তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি। এরপর যুক্তিতর্ক শেষেই রায় ঘোষণা করবেন বিচারক। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ