দুর্যোগেও মানুষের পাশে নেই বরগুনা বিএনপি

দুর্যোগেও মানুষের পাশে নেই বরগুনা বিএনপি

শাহনেওয়াজ হাদি, বরগুনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৬ ৮ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:৩১ ৮ জুন ২০২০

সংগৃহীত

সংগৃহীত

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাগুলোর একটি বরগুনা। বছরের যেকেনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে এই জনপদে। বসতবাড়ি ধংসস্তুপে পরিণত হয় মুহূর্তেই। সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে পেলেও জেলার গরিব-দুখি মানুষ পাশে পাচ্ছেন না বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের। দু:সময়ে এসব নেতাকর্মীরা এক প্রকার উধাও হয়ে গেছে।

পাথরঘাটার এক ইউপি সদস্য বলেন, জেলায় বিএনপি গত দুই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ক্ষমতা আসে আওয়ামী লীগ। জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তারা। জনগণও তাদের পাশে পাচ্ছেন। আম্ফান, সিডরসহ বিভিন্ন দুর্যোগে পাশে দাঁড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের লোকজনই। আর বিএনপি নেতাকর্মীদের এসব কাজে খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা দুর্যোগের সময় জনগণের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।

অনেক কর্মীদের মতে এমন অবস্থা থাকলে তৃণমূলের বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে কিছু নেতাদের মতে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোন কর্মসূচি না থাকায় তারা নীরব রয়েছেন।

জেলায় বিএনপির একাধিক কর্মী জানান, নির্বাচন এলে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ে। নেতাকর্মীদের প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে। কিন্তু গত দুই নির্বাচনে বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীরা তেমনটি করেনি। উপকূলীয় জেলা হিসেবে বিভিন্ন দুর্যোগের কবলে পড়ে বরগুনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। বাদ যায় না বিএনপি কর্মীদের বাড়িঘরও। কিন্তু জেলায় বিত্তশালী অনেক বিএনপি নেতা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দু:সময়ে অন্তত দলের অসহায় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারতেন। কিন্তু সেটি তারা করছেন না। এ অবস্থায় না পারছেন দলকে টিকিয়ে রাখতে না পারছেন কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার পর বরগুনার তিনটি সংসদীয় আসন ছিল। পাথরঘাটা, বামনা ও আমতলী-তালতলী আসনে বিএনপির দলীয় একাধিকবার এমপি থাকায় বরগুনায় একটা সময় বিএনপির ঘাঁটি ছিল।

সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা থাকায় বরগুনার রাজনীতির মাঠে বিএনপির এমন অবস্থা। এদিকে সম্প্রতি উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানেও মাঠ পর্যায় দেখা যায়নি বিএনপির নেতাকর্মীদের। তাদের কোন তৎপরতাও চোখে পড়েনি।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমে শিকদার বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় কর্মসূচি না থাকায় তৃণমূলে আমাদের কোনো কাজ নেই। তবে করোনা পরিস্থিতিতে আমরা কর্মহীনদের মাঝে সহায়তা দিয়েছি। পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ কমিটিতে কিছু লোক রাখায় বিএনপি আজ ধ্বংসের পথে।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, বহুদিন থেকেই বিএনপির কোনো কার্যক্রম নেই। এক অর্থে ঘুমিয়ে আছে তারা। জেলায় বিএনপির পরীক্ষিত এবং ত্যাগীদের কমিটিতে না রাখার কারণেই ঝিমিয়ে পড়েছে দলটি।

বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, দলীয় কর্মীদের মাঠে না থাকা এটি ষড়যন্ত্রের অংশ। দু:সময়ে কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলীয় কর্মসূচি আছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এসআর