চুল নিয়ে যত ভুল! 

চুল নিয়ে যত ভুল! 

ইয়াকুব আল ইমরান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩০ ১৮ জুলাই ২০২২  

ঐতিহাসিক গবেষণা বলে বরফের যুগের আগে থেকেই মানুষ মাথার চুল কাটা শুরু করেছে। ব্রোঞ্জের যুগে চুলকাটার কিছু প্রমাণাদিও পাওয়া গেছে। সংস্কৃতি ইতিহাসবিদ ক্রিশ্চিয়ান ইয়ানেকে সংস্কৃতি-বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে কেশবিন্যাসের ইতিহাস গবেষণা করেছেন৷ তার মতে, চুল অনেক আগে থেকেই সংস্কৃতির অংশ হয়ে গিয়েছে৷ প্রাচীনকালে মানুষের দেহ ছিল রোমশ৷ ধীরে ধীরে এই লোম বিলীন হতে শুরু করে৷ আর মূল্য বাড়তে শুরু করে মাথার চুলের৷ সুদীর্ঘ কেশরাজি অনেক সংস্কৃতিতেই মর্যাদার প্রতীক, বলেন কেশ গবেষক ইয়ানেকে। 

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের আমলে চুল ছেটে ছোট করে রাখার আভিজাত্য বেশ ভালোভাবে প্রচলিত ছিল। তাদের রাজদরবারে এবং সেনাদের মধ্যে চুল ছেটে ছোট করা ও প্রায় ন্যাড়া করাটা তাদের ঐতিহ্য বলে মনে করা হতো। পরবর্তীতে ফরাসি শাসনামলে রাজা ১৪তম লুইস পরচুলা লাগিয়ে লম্বা চুলের ভিন্নধর্মী ফ্যাশন চালু করলেন। সেখান থেকে ইংরেজরা সেটাকে আভিজাত্য হিসেবে গ্রহণ করল।
 
বছরের পর বছর ধরে মানুষ তার চুলের ভিন্নতা বজায় চলেছে। চুলের স্টাইল দিয়ে প্রকাশ করে এসেছে সামাজিক শ্রেণিবিভাগ, বৈবাহিক অবস্থা, গোত্র পরিচয়, রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং লিঙ্গ সম্পর্কের মনোভাব।

আমেরিকার হিপ্পিরা চুল মঙ্গোলিয়দের মতো করে ছেটে ভিয়েতনামের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছিল। 

ফ্যাশনেবল পুরুষদের জন্য ছোট চুল ছিল নিওক্লাসিক্যাল আন্দোলনের একটি পণ্য। পুঁজিবাদী সমাজে মানুষ মানুষকে পণ্য করে এবং নিজের অজান্তে মানুষ পণ্য হতে পছন্দ করতে শুরু করে। 

চুল বড় বা ছোট রাখার জন্য ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য যে ধরনের সাম্যবাদী রাজনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থা প্রয়োজন তা এখনো গোটা বিশ্বে তৈরি হয়নি। এখনো এ দেশের মানুষ একে অন্যকে পরিচয় করাতে শারীরিক গঠনের বর্ণনা করে। এগুলো আমাদের ঔপনিবেশিক প্রভাব। যা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি মন থেকে। হাজার বছরের পুরনো সেই মনিবদের দৈহিক গঠন এখনো আমাদের চোখে সুন্দর মানুষের মাপকাঠি হিসেবে পরিগণিত হয়। এখনো চুল ছেটে নিওক্লাসিক্যাল পণ্য হওয়াটা আমাদের কাছে শালীনতা বা সৌন্দর্যের প্রতীক।

লেখক: শিক্ষক

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস