টাইম ট্রাভেল 

টাইম ট্রাভেল 

তানভীর হোসেন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৮ ১১ মে ২০২২  

টাইম ট্রাভেল বা সময়ের মাঝে পরিভ্রমণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত নেই। এ নিয়ে প্রচুর জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ও উপন্যাস রচিত হয়েছে। ব্লকবাস্টার সিনেমাও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি।

এ সব কল্পকাহিনিতে দেখা যায় টাইম মেশিনে চড়ে খুব সহজেই মানুষ অতীতে বা ভবিষ্যতে চলে যাচ্ছে। যেমন ধরুন, আপনার ইচ্ছে হলো, অতীতে ফিরে যেতে। আপনি টাইম মেশিনে চড়ে ব্যাক বাটন টিপে চলে যেতে পারবেন সুদূর অতীতের কোন এক ঐতিহাসিক সময়ে। আবার হয়তো আপনার ইচ্ছে হলো, ভবিষ্যতের পৃথিবীটি দেখতে। আপনি টাইম মেশিনের ফরওয়ার্ড বাটনে চাপ দিয়ে চলে গেলেন বহুদূর ভবিষ্যতে। ব্যাপারটি মজার কোনো সন্দেহ নেই। ‌কিন্তু আসলে সময়ের মাঝে পরিভ্রমণ করা কি আদৌ সম্ভব?

এ নিয়ে বিজ্ঞানীমহলে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। একদল বিজ্ঞানী মনে করেন, এটি আদৌ সম্ভব নয়। আরেক দল বিজ্ঞানী মনে করেন, তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বর্তমানের প্রযুক্তিতে এটি এখনো সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে হলেও হতে পারে।  

সময় হলো বহতা নদীর মত। কখনো উল্টো দিকে প্রবাহিত হয় না। প্রতি মুহূর্তেই আমরা একটু একটু করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে যেটা বর্তমান, পরমুহূর্তেই সেটাই অতীত‌। অতীত থেকে বর্তমানের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে আমরা ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই অবিরাম পথ চলায় কোনো বিরতি নেই। সেই হিসেবে আমরা সর্বদাই সময়ের স্রোতে সামনের দিকে ভ্রমণ করছি। কিন্তু বর্তমান থেকে অতীতে ফেরা কি সম্ভব? অথবা সুদূর ভবিষ্যতে চট করে চলে যাওয়া যাবে কি? এই প্রশ্নের জবাব খোঁজার আগে, চলুন আমরা দেখি সময় ব্যাপারটি আসলে কি এবং কি ভাবে সময়ের সূচনা হয়েছিল। 

বিজ্ঞানীদের মতে, এখন থেকে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি মহাবিস্ফোরণের বা বিগ ব্যাংয়ের (Big Bang) ফলে আমাদের চেনা মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল। এই মহাবিস্ফোরণের পরপরই মহাবিশ্ব প্রসারিত হওয়া শুরু করে‌ এবং অদ্যাবধি প্রসারিত হয়েই চলেছে। এই প্রসারণের ফলে মহাবিশ্বে স্থানের (space) সৃষ্টি হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা এই তিনটি স্থানিক মাত্রা (spatial dimension) রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মহাবিস্ফোরণের ফলে ত্রিমাত্রিক স্থানের পাশাপাশি আরেকটি ভিন্ন মাত্রার সূচনা হয়েছিল। মহাবিশ্বে কোন বিন্দুকে চিহ্নিত করতে হলে, ত্রিমাত্রিক স্থানের পাশাপাশি এই চতুর্থ মাত্রাটিরও উল্লেখ করা প্রয়োজন। এই চতুর্থ মাত্রাটিই হলো সময় বা কাল (time)।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিগব্যাংয়ের  আগে স্থান এবং কালের কোন অস্তিত্ব ছিল না। সবকিছুই একটি কেন্দ্রবিন্দুতে স্থির অবস্থায় ছিল। বিগব্যাংয়ের ফলে এই বিন্দু থেকেই একই সঙ্গে স্থান এবং কালের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও দৈনন্দিন জীবনে স্থান এবং কালকে আমরা আলাদা মনে করি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্থান এবং কালের (space-time) যৌথ বুননেই মহাবিশ্বের অবকাঠামো গঠিত হয়েছে। মহাবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার তত্ত্বে এটি প্রমাণ করেছেন। বস্তুত সময় হলো, মহাবিশ্বের একটি অন্যতম মাত্রা, যার প্রভাবে মহাবিশ্ব সর্বদাই পরিবর্তিত হচ্ছে।

আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বে সময়ের সঙ্গে গতির একটি সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সময় ব্যাপারটি ধ্রুব নয়, এটি আপেক্ষিক। কোন বস্তুর গতি বৃদ্ধি পেলে তার জন্য সময় শ্লথ হয়ে যায়। যেমন ধরুন, দুইজন জমজ ভাইয়ের একজনকে রকেটে করে মহাশূন্যে পাঠানো হলো। আরেক ভাই পৃথিবীতেই অবস্থান করলো। ধরা যাক, মহাশূন্যে রকেটটি আলোর গতির কাছাকাছি (৯৯ শতাংশ) গতিতে পাঁচ বছর চলার পর পৃথিবীতে আবার ফিরে এলো। পৃথিবীতে ফিরে আসার পর দেখা যাবে ওই পাঁচ বছরে পৃথিবীতে ছত্রিশ বছরের সমান সময় পার হয়ে গেছে।

এর কারণ হল, আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব অনুসারে প্রচণ্ড গতির কারণে রকেটের ভেতর সময়ের গতি পৃথিবীর সময়ের গতির তুলনায় কমে গেছিল। সেজন্য এক ভাইয়ের কাছে রকেটের ভেতর যে সময়কে মনে হয়েছে পাঁচ বছর, অন্য ভাইটির কাছে সে সময় পৃথিবীতে কেটেছে পুরো ছত্রিশ বছর।‌ ভ্রমণ শেষে মহাশূন্যচারী ভাইটি  পৃথিবীতে অবস্থানকারী তার জমজ ভাইটির চেয়ে বয়সে একত্রিশ বছর ছোট হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, সে ফিরে আসবে একত্রিশ বছর পরের ভবিষ্যতে। তার চেনা পৃথিবী তখন অনেক পাল্টে গেছে। একে অনেকের কাছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মনে হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান বলে এটি সম্ভব। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় টাইম ডাইলেশন (time dilation) বা সময় প্রসারণ। এর স্বপক্ষে অনেক পরীক্ষামূলক প্রমাণও রয়েছে।   

মজার ব্যাপার হল, সময় প্রসারণের বাস্তবিক প্রয়োগ দৈনন্দিন জীবনে আমরা এখন করছি। আজকাল গাড়িতে পথ নির্দেশনার জন্য জিপিএস (GPS) স্যাটেলাইটের সাহায্য নেয়া হয়। এসব স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে অনেক উঁচুতে মহাশূন্যে অবস্থান করছে। এদের গতি আলোর গতির কাছাকাছি নয়, সেকেন্ডে মাত্র ৩.৯ কিলোমিটার। আলোর গতি হলো সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার। এসব স্যাটেলাইটের গতি  আলোর গতির একটি অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র। কিন্তু তারপরও এই গতির জন্য জিপিএস স্যাটেলাইটের ঘড়িগুলো প্রতিদিন ৭ মাইক্রো সেকেন্ড করে স্লো হয়ে যায়। কিন্তু এখানে আর একটি কথা মনে রাখতে হবে। সেটি হল, সময়ের উপর মহাকর্ষ বলেরও প্রভাব রয়েছে। এটি আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে দেখিয়েছেন।

পৃথিবী থেকে অনেক উচ্চতায় থাকার ফলে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব জিপিএস স্যাটেলাইটের উপর একটু কম হয়। এর ফলে জিপিএস স্যাটেলাইটের ঘড়িগুলো পৃথিবীর ঘড়িগুলোর চেয়ে প্রতিদিন ৪৫ মাইক্রো সেকেন্ড বেশি গতিতে চলে। গতি এবং মহাকর্ষ এই দুই ধরনের টাইম ডাইলেশনের জন্য সামগ্রিকভাবে জিপিএসের ঘড়িগুলো পৃথিবীর ঘড়ির চেয়ে ৪৫ বিয়োগ ৭, অর্থাৎ ৩৮  মাইক্রো সেকেন্ড বেশি গতিতে চলে। মাইক্রো সেকেন্ড হলো সেকেন্ডের মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ। আমাদের দৈনন্দিন সময়ের হিসেবে এটি খুব বেশি কিছু নয়। তবুও
এজন্য জিপিএস স্যাটেলাইটের ঘড়িগুলোকে পর্যায়ক্রমে ক্রমাঙ্কন (calibration) করা হয়। এটা না করা হলে, জিপিএস স্যাটেলাইটগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারতো না।

আপনি হয়তো ভাবছেন, টাইম ডাইলেশনের ব্যাপারটিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যত থেকে ঘুরে এলে মন্দ হয় না, তাই না? কিন্তু সমস্যা হল, আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে চলার মতো কোনো যানবাহন মানুষ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। এছাড়াও আরেকটি সমস্যা রয়েছে। সেটি হলো, আলোর গতিতে চললে কোন বস্তুর ভর হয়ে যাবে অসীম এবং দৈর্ঘ্য হবে শূন্য। ‌এটাও আইনস্টাইন তার সমীকরণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন। সেজন্য আলোর গতিতে চলা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এটা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও, বাস্তবে নয়। এজন্য আইনস্টাইন টাইম ট্রাভেল নিয়ে নিজেই যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন। তবে টাইম ট্রাভেলের আরেকটি সম্ভাব্য উপায় রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও আমাদের আইনস্টাইনের শরণাপন্ন হতে হবে।

আগেই বলেছি স্থান-কালের (space-time) যৌথ বুননেই মহাবিশ্বের অবকাঠামো গঠিত হয়েছে। স্পেস-টাইমকে আমরা একটি রাবারের চাদরের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। এই চাদরের উপর আমরা যদি একটি সীসার বল রাখি, তাহলে বলটির ভরের জন্য এর চারপাশে রাবারের চাদরটি বাঁকা হয়ে যাবে। ঠিক তেমনিভাবেই সূর্যের ভরের জন্য তার চারপাশের স্পেস-টাইমের মধ্যে এক ধরনের বক্রতার সৃষ্টি হয়েছে। আর সেটিকে অনুসরণ করেই পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করছে। ঠিক একইভাবে সূর্যও প্রদক্ষিণ করছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে ঘিরে। যে বস্তুর ভর যত বেশি হবে তার চারপাশে বক্রতার পরিমাণও তত বেশি হবে। সেজন্যই তার মহাকর্ষ বলও হবে তত বেশি। এভাবেই আইনস্টাইন তার  আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে মহাকর্ষ বলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এরকম যুগান্তকারী ধারণা আইনস্টাইনের আগে আর কারো মাথায় আসেনি। তার আবিষ্কৃত আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব গত একশ’বছরে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ভুলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।  

অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে টাইম ট্রাভেল করা সম্ভব। সেজন্য মহাকর্ষ বলকে ব্যবহার করতে হবে। এ ব্যাপারে ফ্র্যাঙ্ক টিপলার নামে একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী একটি অভিনব পদ্ধতির কথা বলেছিলেন।

তিনি বলেছেন, সূর্যের চেয়ে ১০ গুণ ভারি কোন বস্তুকে যদি সিলিন্ডারের আকৃতি দেওয়া যায় এবং সেটাকে যদি প্রচণ্ড গতিতে ঘোরানো যায়, তাহলে ওই সিলিন্ডারের ভেতর স্পেস-টাইমের চাদরের মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ সৃষ্টি হবে, যার ভেতর দিয়ে অতীতে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে। তিনি তাত্ত্বিকভাবে তার ধারণাটি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বলাই বাহুল্য, এটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো প্রযুক্তি মানুষের হাতে নেই। সেজন্য এটাকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতোই মনে হবে।  

তবে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে এমন কিছু চমকপ্রদ বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন যেগুলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকেও হার মানায়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ব্ল্যাকহোল (blackhole) বা কৃষ্ণবিবর। ব্ল্যাকহোল এমন এক মহাজাগতিক বস্তু যার প্রবল মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এর ভেতর থেকে আলোকরশ্মিসহ কোন ধরনের সিগন্যালই বের হতে পারে না। ব্ল্যাকহোলের ভেতরটি সম্পূর্ণ অন্ধকার। ব্ল্যাকহোলের ভেতর স্পেস-টাইমের বক্রতাটি অসীম আকার ধারণ করেছে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন সিঙ্গুলারিটি (singularity)। তাদের মতে, ব্ল্যাকহোলের অভ্যন্তরে সিঙ্গুলারিটি একটি অদৃশ্য সুড়ঙ্গের আকার ধারণ করেছে। শুধু তাই নয়, স্পেস-টাইমের এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে বিশাল মহাবিশ্বে একটি ব্ল্যাকহোল অন্য একটি ব্ল্যাকহোলের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে ব্ল্যাকহোল দুটো লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্পেস-টাইমের সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে তারা পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্পেস-টাইমের ভেতরের এই অদৃশ্য সুড়ঙ্গের নাম তারা দিয়েছেন, ওয়ার্মহোল (wormhole)।   

ব্যাপারটা সাইন্স ফিকশনের মত মনে হলেও, ওয়ার্মহোলের ধারণাটি অবশ্য নতুন কিছু নয়। আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব দিয়ে এর ব্যাখ্যা করা যায়। আইনস্টাইন এবং তার সহযোগী বিজ্ঞানী ন্যাথান রোজেন ১৯৩৫ সালে লেখা এক গবেষণা নিবন্ধে এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তারা অবশ্য তখন ওয়ার্মহোল নামটি ব্যবহার করেননি, বিজ্ঞানী মহলে তখন একে আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ (Einstein-Rosen Bridge) নামে আখ্যায়িত করা হতো।  

অনেক বিজ্ঞানী ওয়ার্মহোলকে মহাবিশ্বের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার শর্টকাট রাস্তা মনে করেন। তাদের মতে ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে পরিভ্রমণ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে এবং ভিন্ন সময়ে গিয়ে উপস্থিত হওয়া সম্ভব। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে গবেষণা করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে ফ্রান্সের একজন পদার্থবিজ্ঞানীর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে তিনি দেখিয়েছেন, ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে স্থান-কালের মধ্যে পরিভ্রমণ করা সম্ভব। ‌তবে এ নিয়ে বাস্তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় এখনো আসেনি। ‌ 

আরেকদল বিজ্ঞানী মনে করেন, গবেষণাগারে প্রচণ্ড শক্তিশালী মহাকর্ষ বলের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে, স্থান-কালের চাদরের মধ্যে কৃত্রিম সুড়ঙ্গ তৈরি করে তার ভেতর দিয়ে অতীতে ফিরে যাওয়া যাবে। তবে এতটা শক্তিশালী মহাকর্ষ বল সৃষ্টি করার মতো প্রযুক্তি মানুষের হাতে এখনও নেই। তবে ভবিষ্যতে হলেও হতে পারে বলে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন। তারা মনে করেন, এ ব্যাপারে প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে এটা সম্ভব। 

প্রথমেই বলেছি, সময় পরিভ্রমণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সীমা নেই। সেটি মাঝে মাঝে বিজ্ঞানীদের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। তবে এ ব্যাপারে কিছু কূটাভাস (paradox) রয়েছে। সেগুলো একটু আলোচনা করা দরকার। যেমন ধরুন, কেউ যদি অতীতে ফিরে গিয়ে তার নিজের দাদাকেই ছোট বয়সে হত্যা করে আসে, তাহলে কি হবে? তাহলে তো তার নিজের বাবারই জন্ম হবে না এবং ফলে তার নিজেরও জন্ম হবে না। তাহলে সে তার দাদাকে হত্যা করলো কিভাবে? টাইম ট্রাভেলের ক্ষেত্রে একে বলা হয়, গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স। তারপর ধরুন, আমরা ভাবছি ভবিষ্যতের মানুষ টাইম ট্রাভেল করার মত প্রযুক্তি অর্জন করবে। তাহলে এতদিনে ভবিষ্যৎ থেকে বেশ কিছু মানুষের অতীতে, অর্থাৎ আমাদের বর্তমানে চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু তাদের কোথাও তো দেখা যাচ্ছে না। সেজন্য অনেক বিজ্ঞানী বলেন, টাইম ট্রাভেল ব্যাপারটি তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবে বেশ গোলমেলে।

পৃথিবীতে বর্তমান নিয়েই আমরা অনেক সমস্যায় রয়েছি। এর মাঝে অতীত এবং ভবিষ্যৎকে টেনে আনলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। সেজন্য টাইম ট্রাভেল ব্যাপারটি আপাতত গল্প-উপন্যাস এবং সিনেমাতেই থাকুক, বাস্তবে নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে