না জেগেই, সকাল আশা করছি!

না জেগেই, সকাল আশা করছি!

রিয়াজুল হক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫০ ১৫ নভেম্বর ২০২১  

অফিসে যাবার সময় হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম, রাস্তার এক পাশে বসতবাড়ির ময়লা আবর্জনার তিন চারটা পলিথিনের ব্যাগে ফেলে রাখা হয়েছে। চলাচলের রাস্তার উপর ময়লা আবর্জনার পলিথিনের ব্যাগ দেখে অবাক হলাম।

সন্ধ্যার সময় যখন সেই রাস্তা থেকে ফিরছিলাম, তখন দেখলাম সেই একই জায়গাতেই শ'খানেকের চেয়ে বেশি ময়লা আবর্জনার ব্যাগ ইতোমধ্যে জমা হয়ে গেছে। রাস্তার উপরেই যেন একটি ময়লা আবর্জনার স্তুপ। যেতে যেতে খেয়াল করলাম, কোন এক বাড়ির গৃহকর্মী দূর থেকে একটা পলিথিনের ব্যাগ সেই আবর্জনার স্তুপের উপর ছুঁড়ে দিয়ে চলে গেল।

একটু ভালভাবে খেয়াল করলাম, আশেপাশে ডাস্টবিন আছে কিনা? কারণ আমরা ডাস্টবিনের মধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলতে গিয়ে অনেক সময় পাশেই ফেলে চলে যাই। কিন্তু সেটাও দেখলাম না। অর্থাৎ মন চেয়েছে, চলাচলের রাস্তার উপর কিছু মানুষ তাদের বসতবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলতে শুরু করেছে।

একই ধরনের কাজ আমরা হরহামেশাই করছি। আপনি রিক্সায় করে কোথাও যাচ্ছেন। অনেক গরম। হাতে হাফ লিটার পানির বোতল। তৃষ্ণা লাগলে পানি খাবেন। খুবই ভালো কথা। কিন্তু পানি খাওয়া শেষে বোতলটা রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন।

আপনার সন্তান গাড়িতে বসে চিপস খাচ্ছে। খেতেই পারে। সমস্যার কিছু নেই। কিন্তু চিপস খাওয়া শেষে গাড়ির গ্লাস খুলে রাস্তায় চিপসের প্যাকেট ছুড়ে দিচ্ছে। আপনি দেখলেন। কিন্তু কখনো বলেন নি, এটা করা যাবে না। অনেক সময় দেখা যায়, আপনি নিজেই সন্তানের কাছ থেকে চিপসের খালি প্যাকেট নিয়ে, সেই একই কাজ করছেন।

ঘরের ময়লা আবর্জনা ডাস্টবিনের ভেতর না ফেলে রাস্তার উপরে ফেলে দিচ্ছেন। এত ব্যস্ততা আপনার! কেউ কেউ ড্রেনে ফেলেন। হয়তো মনে করেন ড্রেন স্রোতস্বিনী নদীর মত। ময়লাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাবে।

ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মনে হল, আপনার প্রস্রাব করা দরকার। রাস্তার পাশে দেয়ালের উপর সেই কাজ করে ফেললেন। কতটা নোংরা মানসিকতা, চিন্তা করা যায়!

এই আপনি যখন সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন, তখন সেখানকার রাস্তা দেখে অবাক হন। এত পরিষ্কার, সামান্য ময়লা পাওয়া যায় না। আফসোস করে বলেন, বাংলাদেশ কেন এমন হয় না? 

এখানে আফসোস করার কিছু নাই। আপনি নিজেকে যদি পরিবর্তন না করেন, রাস্তার পরিবর্তন কি আসমান থেকে হবে?

আপনি যতদিন সিঙ্গাপুর থাকবেন, কখনোই সেই রাস্তায় একটা বাদামের খোসাও ফেলবেন না। সেখানে আপনার আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তন নিজের দেশে দেখান। দেশের রাস্তার চেহারায় তখন অনেক পরিবর্তন পাবেন।

লেখক: যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর