বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২১ ও জলাতঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২১ ও জলাতঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত

ডা. সোহরাব হোসেন  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:২০ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১  

আসছে ২৮ শে সেপ্টেম্বর  বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস প্রতিপালিত হতে যাচ্ছে। বৈজ্ঞানিক লুইপাস্তুর যিনি  সর্ব প্রথম  ১৮৮৪ সালে  জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিস্কার করতঃ অনাগত ভবিষ্যেতে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষার উপায় উদ্ভাবন করে বিশ্বমানবতার জন্য এক অনন্য  কল্যাণ সাধন করেছিলেন । এ মহা মনীষীর স্মৃতির প্রতি সন্মান প্রদর্শন করতে  প্রতি বছর তার মৃত্যু তারিখ ২৮শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, মরণ ব্যাধি জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে, দেশ বা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। পৃথিবীর অন্যান্য  দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় কর্মসূচিটি প্রতিপালন করা হবে। সেজন্য স্বাস্থবিভাগ,প্রাণী সম্পদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং অন্যান্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের  সমন্বিত উদ্যোগে  দেশব্যাপী সকল বিভাগ ও জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ে জন সচেতনতা সৃষ্টি মূলক  বিভিন্ন  কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ দিবসের  এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়  হলো ,”জলাতঙ্ক ভয় নয় , সচেতনতায় জয়”

জলাতঙ্ক প্রাচীন কাল হতে সংঘটিত সর্বাপেক্ষা  ভয়ংকর সংক্রামক রোগ, অদ্যাবধি যার কোন চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয় নাই এবং মর্মান্তিক মৃত্যুই ইহাতে আক্রান্ত রোগীর অনিবার্য পরিণতি। প্রধানতঃ কুকুর হতে (৯৫% এর অধিক ক্ষেত্রে) জলাতঙ্ক রোগের সংক্রমণ ঘটে।শিয়াল বিড়াল বেজী বানর এমনকি আক্রান্ত গবাদি প্রাণী হতেও এ রোগ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীতে  সংক্রমিত হতে পারে।জলাতঙ্ক  শতভাগ বিপজ্জনক। অপরদিকে ইহা শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। যথাযথ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই এ ভয়ংকর ব্যাধির সংক্রমণ প্রতিরোধ  সম্ভব।  কুকুর বা সন্দেহ ভাজন  জলাতঙ্ক গ্রস্থ প্রাণী দ্বারা আক্রান্তের পর  রোগী দেহে সৃষ্ট ক্ষতস্থান  যথাশীগ্র ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রবাহম্যান পানি দ্বারা  ১৫ মিনিট  ধৌত  করা হলে সেখানে নিপতিত রেবিস ভাইরাস অপসারিত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আর অতিশয় সহজ এ  প্রজুক্তি প্রয়োগ করেই  প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে এ ভয়ংকর ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে । 

পরবর্তী ধাপে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক যথাসময়ে এন্টিরেবিস টিকা প্রদান করে প্রায় শত ভাগ ক্ষেত্রে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা যেতে পারে। অতীতে জলাতঙ্ক টিকা ছিল দুষ্প্রাপ্য এবং ইহার প্রয়োগ পদ্ধতি ছিল জটিল,কষ্টকর এবং অনিরাপদ। বর্তমানে ব্যবহৃত জলাতঙ্ক  টিকা অধিক কার্যকর ও নিরাপদ। ইহার প্রয়োগ পদ্ধতিও সহজ এবং বেদনা হীন। ইহা অতি মূল্যবান হলেও সরকারিভাবে মহাখালীস্থ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, সকল জেলা সদর হাসপাতাল এবং শতাধিক উপজিলা হেলথ কমপ্লেক্স  হতে বিনামূল্যে এ টিকা  প্রদান করা হয় । এ ছাড়া দেশের সর্বত্রই ফার্মাসিতে ইহা কিনতে পাওয়া যায়।সুতরাং জলাতঙ্ক এখন পূর্বের মতো ভয়ের বিষয় নয় বরং মানুষ সচেতন হলে এ রোগ প্রতিরোধের আধুনিক প্রযুক্তি  ও উপকরণ  ব্যবহার করে অতি সহজেই  ইহার সংক্রমণ সম্ভাবনা জয় করা সম্ভব।             

জলাতঙ্ক রোগ সংক্রমণের বৈশ্বিক অবস্থা :  অতীতে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ  বিষয়ে  সারা বিশ্বের  মানুষ  নিদারুণ নিরুপায় ছিল। ইহার টিকা আবিষ্কৃত হওয়ার পর পৃথিবীর  বিভিন্ন দেশ এ ভয়ঙ্কর মরণ ব্যাধি  নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল বিষয়কে অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন শুরু করে এবং  বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জাপান অস্ট্রেলিয়া ব্রিটেন সিঙ্গাপুর নিউজিল্যান্ড সহ বেশকয়েকটি দেশ এ রোগকে নির্মূল করে ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর আরও কতিপয় দেশ এ রোগকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং  অধিকাংশ দেশ এ রোগের  সংক্রমন সংখ্যা কাঙ্খিত পর্যায়ে হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এখনও পৃথিবীর  প্রায় শতাধিক  দেশে এ রোগ বিরাজমান এবং  বছরে প্রায় ৫৯০০০ হাজার মানুষ এ ইহাতে  আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করে।আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশ  বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়াতে এ রোগের  প্রাদুর্ভাব  বেশি।
 
বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি শুরুর ইতিহাস:  সাম্প্রতিক বিশ্বের অধিকাংশ দেশে জলাতং জলাতঙ্ক রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল একটি সুসংঘটিত ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। কিন্তু অতি নিকট অতীতেও অবহেলার কারনে বাংলাদেশে  জলাতঙ্ক রোগ নিয়ন্ত্রনে  আধুনিক চিন্তা চেতনা নিবিঢ় তিমিরে নিমজ্জিত ছিল এবং এ বিষয় উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি ছিল না। প্রতি বছর এ দেশে হাজার হাজার মানুষ ও গবাদিপ্রাণী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেত এবং জলাতঙ্ক রোগ সংক্রমণ বিশ্ব তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তৃতীয়। ২০১০ সাল হতে বাংলাদেশ সরকার জলাতঙ্ক  রোগ  নিয়ন্ত্রণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসাবে গ্রহণ করেছেন । প্রথমে স্থানীয়সরকার,পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ  জলাতঙ্ক রোগকে মারাত্মক  সমস্যা হিসাবে আখ্যায়িত করে ইহার প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে একটি  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে গ্রহণ করা হয় এবং উক্ত বিভাগ হতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে পাইলট প্রোগ্রাম হিসাবে পৌরসভা সমূহে জলাতঙ্ক প্রতিরোধের আধুনিক কার্যক্রম গ্রহণ শুরু করা হয়।পরে স্বাস্থবিভাগ ,প্রাণিসম্পদ ,ও স্থানীয় সরকার বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ২০১১-১২ সাল হতে  জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং জলাতংক রোগ নিয়ন্ত্রণ জাতীয়  কৌশল পত্র প্রস্তুত করে  ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্ক রোগ মুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে উহা বাস্তবায়নে রোডম্যাপ তৈরী করা হয়।  

জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রণীত কর্মকৌশল :  (১) কুকুর বা সন্দেহ ভাজন জলাতঙ্ক গ্রস্থ অন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্তের পর বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে চিকিৎসা প্রদান। (২)ব্যাপক হারে কুকুরকে জলাতঙ্ক টিকা (Mass dog vaccination -MDV) দেয়া। (৩)পরিকল্পিত ভাবে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা। (৪)জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে অংশ গ্রহণে উদ্ভুদ্ধ করতে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা। আর এ কৌশল সমূহ দ্রুত ও সফল ভাবে  বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চ পর্যায় হতে কারিগরি ও নৈতিক  সহজোগিতা প্রদানে গঠন করা হয় টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ ও ন্যাশনালিস্টিয়ারিং কমিটি। 

জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি : স্বাস্থবিভাগ, প্রাণিসম্পদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ এবং সক্রিয় সহোযগিতায় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি শুরু করার কয়েক বছরের মধ্যেই  উল্লেখযোগ্যভাবে গতিশীলতা প্রাপ্ত হয়। স্বাস্থ বিভাগের নেতৃত্বে মানুষে জলাতঙ্ক রোগ রোধ করতে কুকুর/প্রাণীর আঁচড় কামড় পর  বহুমাত্রিক আধুনিক চিকিৎসাকৌশল প্রয়োগ বহু গুনে বৃদ্দি করায় সারাদেশে জলাতঙ্ক জনিত মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। বাংলাদেশে  ২০০৯ সালে জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল  প্রায় ২০০০ এর অধিক মানুষ। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা হ্রাস পেয়ে ২০০ জনে  নেমেছে। ঢাকার মহাখালীস্থ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে  ২০০৯ সালে  জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যের সংখ্যা ছিল ১৪৮ জন্। ২০১৮ সালে তা কমে এসেছে ৪৯ জনে. সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, মহাখালী ,বিটিআইটিআইডি হাসপাতাল চট্রগ্রাম এবং জেলা সদর হাসপাতাল সমূহ হতে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ২০২১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ জন (সিডিসি, স্বাস্থ অধিদপ্তর)। জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির চাহিদার আলোকে নানা আঙ্গিকে  সিডিসি ,স্বাস্থ অধিদপ্তরের সক্ষমতাও বৃদ্দি পেয়েছে বহুগুন।  বাংলাদেশে স্বল্প সময়ের ব্যাবধানে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসুচির  এ অভূতপূর্ব  অগ্রগতি জলাতঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বন্ধুর পথে এক উজ্জল  আলোক বর্তৃকা এবং এ সফলতা শুধু এ দেশেই নয় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও সাদরে গৃহীত এবং উচ্ছসিত ভাবে প্রসঙশীত।
 
দেশকে জলাতঙ্ক মুক্ত করতে কুকুরকে ব্যাপক হারে টিকা প্রদান : শুধু মানুষই নয় অন্যান্য প্রাণির ক্ষেত্রেও  জলাতঙ্ক রোগের  প্রধান বাহক কুকুর।  সুতরাং কুকুরে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ করে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীকেও নিরাপদ করা  সম্ভব। বৈজ্ঞানিক ভাবে স্বীকৃত যে কোনো দেশ বা এলাকায় শতকরা ৭০ ভাগ  কুকুরকে ব্যাপক হারে  জলাতঙ্ক টিকা প্রদান করা হলে তাদের মাঝে হার্ড ইমিউনিটি তৈরী হয় তথা  সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল কুকুরই  নিরাপদ হয়।  ৩ বছরে সঠিকভাবে  পর পর তিন রাউন্ড জলাতঙ্ক টিকা প্রদান করা হলে ঐ  এলাকা বা দেশ জলাতঙ্ক মুক্ত হওয়ার  মর্যাদা লাভ করে । এ ধারণার আলোকে বাংলাদেশে জলাতঙ্ক নির্মূল কার্যক্রমের প্রাথমিক  সময় হতেই  তথা ২০১২-১৩ সাল হতে  ব্যাপক হারে কুকুরে  টিকাদান কার্যক্রম    ( Mass dog vaccination - MDV) শুরু করা হয় এবং অদ্যাবধি তাহা চালু আছে।  ২০২১ সাল পর্যণ্ত দেশের সকল জেলায় ১ম রাউন্ড ,১৬ টি জেলায় ২য  রউন্ড  এবং ৬ টি জেলায় তৃতীয় রাউন্ড সম্পন্ন করে প্রায় ২১,৩৮৬৩৯ টি কুকুরকে টিকা প্রদাণ করা হয়েছে।  (সিডিসি,  স্বাস্থ  অধিদপ্তর ) এমডিভি কার্যক্রমের এ অগ্রগতি নিঃস্বন্দেহে   প্রসংশনীয়  অর্জন। তবে কাঙ্খিত সময়ের মধ্যে  জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির লক্ষমাত্রা অর্জনে  এমডিভি  কর্মসূচিকে বর্ণিত পদক্ষেপ সমূহ দ্বারা আরও  গতিশীল করতে হবে 

(১) এম.ডি ভি বাস্তবায়ণনে স্বাস্থ বিভাগ,প্রাণিসম্পদ ও স্থানীয় সকার বিভাগের সহজোগিতাকে আরো নিবিড় ও  সুসংহত করতে হবে এবং সেজন্যে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল জাতীয় কমিটি গুলোর আলোচনা সভা  নিয়মিত করতে হবে.(২) নুন্যতম সময়ের ব্যাবধানে তিন বছরে তিন রাউন্ড টিকা প্রদান সম্পন্ন করতে হবে ।(৩)অধিকতর গুনগত মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন এবং দক্ষ টিকা কর্মী দ্বারা এমডিভি সম্পন্ন করতে হবে ।(৪)প্রতিটি টিকাদান এলাকায় কাঙ্খিত সংখক  কুকুরকে (নূণ্যতম ৭০%) টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে । (৫)পাশাপাশি এলাকা বা অঞ্চলে  কাছাকাছি সময়ে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে ।           

জলাতঙ্ক রোগের সংক্রমণ রোধে কুকুর কামড়ানোর সংখ্যা হ্রাসের উপায়  : বাংলাদেশ, পৃথিবীর অধিক হারে  জলাতঙ্ক রোগ সংক্রমণ প্রবন দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম এবং এখানে কুকুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়া বা কামড় প্রাপ্ত  রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি যাহা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় বিড়ম্বনা। এ সমস্যা নিরসনে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক । (১) এমডিভি  কার্যক্রম  দেশব্যাপী দ্রুত সম্প্রসারণ পূর্বক সারাদেশে কুকুরকে জলাতঙ্ক রোগ মুক্ত করে  নিরাপদ প্রাণী হিসাবে পরিচিতি প্রদান। (২) পরিকল্পিত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক উপায়ে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ (৩ )কুকুরের প্রতি দায়িত্ত্বশীল আচরণ  করা , অহেতুক উত্যাক্ত করণ  হতে বিরত থাকা এবং ইহাদের প্রতি ঋনাত্তক মনোভাব পরিহার করতে মানুষকে উদ্ভূদ্ধ করা। (৪) কুকুরের বিশ্বস্ততা ও প্রভু ভক্তি গুণাবলী মূল্যায়ন পূর্বক তাদের প্রতি মানবিক আচরণ বৃদ্দি করা। (৫) যেহেতু কুকুর পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করার একটি বড়  উপাদান। কাজেই  জনস্বার্থে ইহাদেরকে  নিরাপদ রাখার  জন্য স্থানীয় ভাবে পদক্ষেপ  গ্রহণ।  

জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষমাত্রা হল  ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে কুকুর বাহিত জলাতঙ্ক রোগ  মুক্ত করা। উক্ত  লক্ষমাত্রা  অর্জনে বিশ্ব স্বাস্থসংস্থা (WHO),বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা  (FAO),বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্যসংস্থা ( OIE) এবং গ্লোবাল এলায়েন্স ফর রেবিস কন্ট্রোল (GARC) সম্মিলিত ভাবে যে বৈশ্বিক কর্মকৌশল প্রণয়ন করে বিশ্ব ব্যাপী বাস্তবায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মকৌশলও তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং এ কৌশল সমূহ যথারীতি বাস্তবায়ন করা  সম্ভব হলে কাঙ্খিত সময়ের মধ্যে  জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল করে জলাতঙ্ক মুক্ত বিশ্বের সাথে জলাতঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ  উপহার দেয়া সম্ভব হবে।

ডা. সোহরাব হোসেন 
জেনারেল সেক্রেটারি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার র‌্যাবিস ইন এশিয়া ফাউন্ডেশন
প্রাক্তন ভেটেরিনারি অফিসার , গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ