ট্রেড যুদ্ধে জয়ী হয় কে?

ট্রেড যুদ্ধে জয়ী হয় কে?

রিয়াজুল হক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ১৭ আগস্ট ২০২১  

একটি দেশ যখন অন্য দেশের পণ্যের উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ যেমন, কোটা সীমাবদ্ধতা আরোপ, শুল্ক আরোপ বা বিদ্যমান শুল্ক বৃদ্ধি ইত্যাদি করার মাধ্যমে ক্ষতি করার চেষ্টা করে, খুব সাধারণভাবে তাকে ট্রেড যুদ্ধ বলে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, ট্রেড যুদ্ধ করে মূলত জয়ী হয় কে? এক কথায় যদি উত্তর দিতে হয়, তবে বলা যেতে পারে, এই যুদ্ধে কেউ জেতে না। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ ক্রেতা। পূর্বে ঘটে যাওয়া ট্রেড যুদ্ধের মাধ্যমে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। তবে যারা ট্রেড যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে না, তারা এই যুদ্ধের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে।

ধরুন, দুইটি দেশ ‘ক’ এবং ‘খ’ এর মধ্যে ট্রেড যুদ্ধ সংঘটিত হল। ‘ক’ দেশ ‘খ’ এর পণ্যের উপর এবং ‘খ’ দেশ ‘ক’ দেশের পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে দিল। এর ফলে, ‘খ’ এবং ‘ক’ দেশের রফতানি আয় কমে গেল। ‘খ’ দেশ তার পণ্য নতুন বাজার ‘গ’ দেশে কিছুটা কম মূল্যে রফতানি করা শুরু করল। নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য পণ্যের মূল্য কম রাখাটাই বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ ট্রেড যুদ্ধে না থেকেই বরং দেশ ‘গ’ লাভবান হল।

অস্ত্রের মাধ্যমে যুদ্ধ করে যেমন নিজের শক্তির জানান দেওয়া হয়, তেমনি একটি দেশকে আর্থিক সংকটে ফেলার জন্য ট্রেড যুদ্ধ করা হয়ে থাকে। তবে এই যুদ্ধ সবসময় একচেটিয়া হবে, বিষয়টি তা কিন্তু নয়। বৃহৎ বাজারের দুই বা ততোধিক শক্তিশালী দেশের মধ্যেও ট্রেড যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমনটি চীন এবং আমেরিকার মধ্যে হয়েছে।

অনেকেই যুক্তি দেখিয়ে থাকেন, দেশীয় কোন কোন শিল্পের সহায়তার জন্য আমদানিকৃত পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করা হয়ে থাকে। এই ট্যারিফ আরোপ যদি দেশের স্বার্থে করা হয়ে থাকে, তবে সেটাকে সাধুবাদ জানানো যায়। তবে কাউকে শায়েস্তা করার চিন্তা করে যদি কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন বিষয়টা দেশীয় শিল্পের সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আরো একটি বিষয় হচ্ছে,  আমদানিকৃত পণ্যের উপর উচ্চ ট্যারিফ বসালেই যে দেশীয় শিল্প বেঁচে যাবে, বিষয়টি কিন্তু এত সহজ নয়। পণ্যের মান, প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, মূল্য, ভোক্তার চাহিদা পূরণে সক্ষমতা ইত্যাদি অনেক কিছুই জড়িত থাকে।

বৈশ্বিকভাবে প্রায় সবাই একমত যে, ট্রেড যুদ্ধে কেউ জয়ী হতে পারে না। ট্রেড যুদ্ধের কারণে পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। এর ফলে, ক্ষতির সম্মুখীন হয় সাধারণ ক্রেতা, যারা সংখ্যায় অনেকগুণ এবং এই অর্থনৈতিক সংঘাতের বিষয়ে সামান্যতম আগ্রহ যাদের নেই।

লেখক- অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ