জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমনটাই তো হওয়ার ছিল!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমনটাই তো হওয়ার ছিল!

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫২ ২৪ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৩:৫৬ ২৪ জুলাই ২০২১

সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ হারার পর অনেকেই হায় হায় রব শুরু করেছেন। এমন অবস্থা যে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে আমাদের জাতই চলে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের তো এমনটাই হওয়ার কথা ছিল! 

দ্বিতীয় ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের আগে প্রথম টি-২০র দিকে তাকাই। সেখানে বাংলাদেশকে দেড়শ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে হয়। ম্যাচের লাগাম প্রায় পুরো সময় টাইগারদের হাতে থাকলেও শেষদিকে খুব অল্প পরিমাণে হলেও জিম্বাবুয়ের দিকে ঝুঁকে যায়।

লক্ষ্য কম থাকার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে উইকেট না খোয়ালেও বারবার মনে হয়েছে দুই ওপেনার বাইশ গজে খুব শান্তিতে খেলতে পারেননি। কোয়ালিটি বোলিংয়ের সামনে পড়লে আমরা সেই ম্যাচও হারতাম। 

ম্যাচটা জেতা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র জিম্বাবুয়ে বোলারদের বাজে বোলিংয়ের জন্য। যে কারণে মোটামুটি অনেক ডট দিলেও প্রতি ওভারেই নাইম-সৌম্যের হিটিং জোনে বল ফেলেছে আর বাউন্ডারি থেকে রান আসায়। 

নাইম শেখের হিটিং জোন অত্যন্ত সীমিত। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলগুলো যত সহজে খেলতে পারেন, লেগ স্ট্যাম্প বরাবর পা থেকে পেট পর্যন্ত অঞ্চলে তিনি ততটাই দুর্বল। 

নাইমের ভাগ্য ভালো, জিম্বাবুয়ের বোলাররা তাকে ডট দিলেও একটু পরপরই অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শক্তির জায়গায় বল দিয়েছে। বিনিময়ে বলা যায় ফিফটি পেয়েছেন। সিংগেল বের করতেও অনেকবার তাকে কষ্ট করতে দেখা গেছে (শটগুলো খুব স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছেন বলে মনে হয়নি)।

শেষ পর্যন্ত তিনি ৫১ বলে ৬৩ রান করেছেন। তবে এমন বোলিংয়ের বিপক্ষে স্ট্রাইক রেট আরো ভালো হতেই পারতো। রানের চাপ কম ছিল ঠিকই, তবে তার হিটিং জোন নিয়ে আরো কাজ করতে হবে। প্রেশারের সামনে অর্থাৎ বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে যে তিনি অধিকাংশ ম্যাচে ফ্লপ করবেন, এটাই আমার ধারণা। 

সৌম্য সরকারও সাধারণত স্ট্রোক মেকার। কিন্তু সেদিন ৫০ রানের ইনিংস খেলতে বল খেলেছেন ৪৫টি। এর মাঝে ২৮ রান করেছেন ৬ বলে। বাকি ২২ রান এসেছে ৩৯ বলে। এখানেও ডট দেওয়ার প্রবণতা খুব বেশি ছিল। জিম্বাবুয়ের মুজারাবানি ছাড়া আর কেউই আহামরি বল করেনি যে এত ডট হবে। 

তবে খুশি হয়েছিলাম, তিনি রানে ফেরায়। ভেবেছিলাম, এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে নিয়মিত রান করবেন। কিন্তু পরের ম্যাচে একটু বেশি রান তাড়া করতে গিয়েই দুজনে ফ্লপ। 

বাকীদের প্রায় প্রত্যেকেই গতকাল খুব ভালো সুযোগ পেয়েছেন নিজেদের পজিশন হিসেবে বড় ইনিংস খেলার। সবাই এসেছেন, মারতে গেছেন আর সাজঘরে ফিরেছেন। কারো ভেতরই ধরে খেলার প্রবণতা ছিল না। অথচ একটু মাথা ঠান্ডা করে খেললেই এই ম্যাচ সহজে জেতা যেতো বলেই আমার মনে হয়। 

শামীমের এপ্রোচটাই শুধু ভালো লেগেছে। সে আর ২ ওভার টিকে থাকলে হয়তো ম্যাচের ফলও অন্যরকম হতে পারতো। আশা করি সে সামনে আরো অভিজ্ঞ হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের গিয়ার আপ ডাউনে আরো পরিপক্ব হবে। 

তৃতীয় টি-২০ হয়তো বাংলাদেশ জিতবে। তবে প্রথম ম্যাচে বোলিং শেষেই যেমন অতি আত্মবিশ্বাসি হয়ে গা ছাড়া ভাব দেখিয়েছিল, তেমনটা না হলেই হয়তো এটা সম্ভব।

শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য, জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচেই যেভাবে প্ল্যানিং ক্রিকেট ও ফাইটিং স্পিরিট দেখিয়েছে, আমাদের মাঝে তার অর্ধেকও দেখা যায়নি। এটাই বাস্তবতা।

আর প্ল্যান ও স্পিরিট ছাড়া খেলতে নামলে এমন ছন্নছাড়া ফলাফল আসাই তো স্বাভাবিক। তাই টি-২০তে এমনটাই তো হওয়ার ছিল! 

 

আসাদুজ্জামান লিটন
সম্মান তৃতীয় বর্ষ, 
সরকারী আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/এএল