বাড়িতে পণ্যের মজুত করবেন না

বাড়িতে পণ্যের মজুত করবেন না

রিয়াজুল হক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩৬ ৪ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২১:৩৮ ৪ এপ্রিল ২০২১

জরুরি প্রয়োজনে একটি সুপার শপে গিয়েছিলাম। কয়েকজন ক্রেতা দেখলাম হন্তদন্ত করে আলু, পিঁয়াজ, মাংস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদি যতটা সম্ভব সব কিনে ফেলছেন। আমি নিশ্চিত, নতুন করে পণ্য না আনলে ওই সুপার শপের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের স্টক শেষ হয়ে গেছে। বিভিন্ন কাঁচাবাজারেও একই অবস্থা শুনলাম। যাদের টাকার সমস্যা নেই, লকডাউনের খবর শুনে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্যদ্রব্য কিনে রাখছে। হয়তো তারা মনে মনে চাচ্ছে, লকডাউন দীর্ঘমেয়াদি হোক।

এই যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এর ফলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে, গরীব মানুষগুলো যে বিপদে পড়বে, সেটা কি সেই পয়সাওয়ালা মানুষগুলো ভেবে দেখেছে? 

পেটে আর কত খাবার ধরবে? বাড়িতে খাবার মজুত করে রেখে আসলে কি লাভ? আমাদের তো খাদ্যে কোন সংকট নেই। তারপরেও কেন এই আত্মকেন্দ্রিক কার্যক্রম? লকডাউন তো দেয়া হয়েছে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য, বাড়িতে পণ্য মজুত করে রাখার জন্য নয়।

গত বছর মার্চ-এপ্রিল মাসের কথা সকলেরই মনে আছে। ২-৩ টাকার মাস্ক ২৫-৩০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। অনেক গরিব মানুষ ওয়ান-টাইম মাস্কও  বারবার ধুয়ে ব্যবহার করেছেন।

আমরা কী অতি চালাক নাকি বেশি বোকা? উত্তর যাই হোক, তবে নিজেদের স্বার্থটুকু খুব ভালো বুঝি। আর এই স্বার্থপরতার জন্য অন্যদের বিপদে ফেলতে আমরা পিছপা হই না।

প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আমরা দেখতে পাচ্ছি। মৃত্যু কত সহজ হতে পারে, সেই ধারণাও আমরা পেয়ে গেছি। কিন্তু তারপরেও বিবেকবোধ আমাদের কতটা জেগে উঠেছে, সেটাই প্রশ্ন?

সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, দয়া করে করোনার এই  মহামারির সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য দ্রব্য কিনে মজুদ করবেন না। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই কেনেন। কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েন না। গরীব মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কিংবা বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ততার বিষয়টিও আমাদের সকলের মাথায় রাখা উচিত। সকলেই ভালো থাকুক, খেয়ে পড়ে সুস্থ থাকুক।

লেখক: রিয়াজুল হক, যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ