গভীর বেদনা বাজে অন্তরে

জাতীয় শোক দিবস

গভীর বেদনা বাজে অন্তরে

প্রকাশিত: ১৪:১০ ১৫ আগস্ট ২০২০  

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম কবি বীরেন মুখার্জী। পেশা: সাংবাদিকতা। পাশাপাশি গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস রাজনৈতিক কলাম লিখে চলেছেন একাধারে।  তার আগ্রহের অন্যতম বিষয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ‘লোকঐতিহ্য’। সম্প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাণে। তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঘোর’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

বাঙালি জাতির শোকাবহ ও বেদনাঘন দিন পনের আগস্ট। কালের নিয়মে প্রতি বছর ফিরে আসে মর্মন্তুদ এই দিনটি। নদী-মেখলার এই নরম-শ্যামল মাটির প্রতিটি বাঙালির হৃদয় কেঁদে ওঠে, মন ভারী হয়ে ওঠে- এই দিনে। কতিপয় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ছাড়া সকলেরই অন্তর পোড়ে। চোখে আরো বেশি কষ্টের জল ঝরে, সকলের কর্ণপ্রহরে যখন প্রবেশ করে তাঁর বজ্রকণ্ঠের বলিষ্ঠ উচ্চারণ- ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে... রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো, এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ... এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। 

বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, মহান স্বাধীনতার রূপকার জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আদর্শ-বিচ্যুত স্বার্থবাদী ও বিকৃত মানসিকতার কয়েকজন সেনাসদস্য। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সংঘটিত ইতিহাসের কলঙ্কিত বর্বরোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমরা হারিয়েছি বাঙালির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের মহাকাব্যিক বীর নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। হারিয়েছি তার দুই কন্যা ব্যতিরেকে পুরো পরিবারকে। যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট খুনিচক্র কেবল ব্যক্তি মুজিবকেই হত্যা করেনি। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তির ওপর আঘাত হানে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে পিছিয়ে নিয়ে যায়। পঁচাত্তরের ক্ষমতাসীন সামরিক-বেসামরিক এলিটচক্র বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শগত অবস্থান ও লক্ষ্য থেকে সরিয়ে এনে একটি ধর্ম-সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করে। রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা বেদখল করে এবং সংবিধানের কর্তৃত্ব ধ্বংস করে। দেশব্যাপী হত্যা, সন্ত্রাস, জোর-জবরদস্তি চলে। পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহেরের হত্যাকাণ্ড, বিচার নামে প্রহসন করে সশস্ত্র বাহিনীর শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও জোয়ানকে হত্যা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিবেচনায় আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন-এর নজির হয়ে ওঠে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি। উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদকে অর্থাৎ ‘৭১-এর সশস্ত্র আলবদর, আল শামস, রাজাকারদের রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসিত করা হয়।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, খুনিদের বাঁচানোর জন্য ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথোরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে খন্দকার মোশতাকের স্বাক্ষর রয়েছে। মোশতাকের স্বাক্ষরের পর আধ্যাদেশে তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমানের স্বাক্ষর আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়। এরপর ক্ষমতায় আসে সামরিক শাসক মেজর জিয়া। সেদিন জিয়াউর রহমান ঘোষণা করেছিলেন ৩ মাসের মধ্যে ব্যারাকে ফিরে যাবেন, কিন্তু এটি বাস্তবে হয়নি। তিনি হ্যাঁ-না ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি হন। যা ছিল একটি প্রহসনের নির্বাচন। ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশসহ চার বছরে সামরিক আইনের আওতায় সব অধ্যাদেশ, ঘোষণাকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনি বৈধতা দেন। এভাবেই মোশতাক-জিয়া গংরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করার ষোলকলা পূর্ণ করেন। শুধু তাদের রক্ষা করা নয়, এই খুনি চক্রের অনেককে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ পদ, ক‚টনীতিক পদ, মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়। দেশদ্রোহী গোলাম আযমকে দেয়া হয় নাগরিকত্ব। পাকিস্তানপন্থি শাহ আজিজুর রহমানকেও প্রধানমন্ত্রী করা হয়। 

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যখন যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি দেশকে সোজা করে দাঁড় করানোর জন্য, প্রাণের সম্পূর্ণ আবেগ দিয়ে দেশটিকে গড়ে তোলার অভিপ্রায়ে বঙ্গবন্ধু কাজ করে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন তার সাগরের মতো বিশাল বুকটিকে নির্মম বুলেট দিয়ে ঝাঝরা করে দেয়া হয়। তার বুকের রক্তে ভিজে যায় ধানমন্ডির ঐতিহাসিক সেই বাড়িটির সিঁড়ি, রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায় বঙ্গোপসাগরে। এই বেদনার রক্ত ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে, আনাচে-কানাচে, ছড়িয়ে পড়ে মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে। কিন্তু তখন এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ কেউ করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর সমস্ত ঘনিষ্ট সহযোগীদের বন্দী করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। আবার জেলখানার ভেতরেও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোগী চার জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুহূর্তে একমাত্র প্রতিবাদকারী সেনা অফিসার যিনি হত্যাকারীদের প্রতিরোধ করতে ৩২ নম্বরের দিকে ধাবিত হয়েছিলেন সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল শাফায়াত জামিল, সেক্টর কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর হায়দারও কুচক্রীদের হাত থেকে রেহাই পাননি, এবং পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা অসংখ্য সেনা সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে জিয়াউর রহমানের নির্দেশেই। শুধু তাই নয় জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই প্রখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বানিয়েছিলেন। এতো এতো নির্মম হত্যাকাণ্ড ও স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিহাস কি তাকে ক্ষমা করেছে? করবে? করবে না। করেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধীদের যে উত্থান ঘটিয়েছিলেন তার মাসুল জাতিতে এখন হাড়ে হাড়ে দিতে হচ্ছে। 

অবশেষে নানান চড়াই-উৎরাই পার করে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতার স্থপতিকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের পথ সুগম হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতে থাকে। দিনটিকে সরকারি ছুটির দিনও ঘোষণা করা হয়। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে এ ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে। রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন বাতিল করে দেয়া হয়। এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা ও অমর্যাদা। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কারণ বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, এক মহান আদর্শের নাম। যে আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল গোটা দেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত করে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পৃথিবীর মানচিত্রে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের মর্যাদা দিতে চেয়েছিলেন। আমরা সকলে জানি, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তার দূরদর্শী নেতৃত্বগুণে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। আমাদের দেশ নি¤œ আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশের পথে অনেকদূর এগিয়ে এসেছি আমরা। বিশ্বের অনেক দেশই বাংলাদেশকে এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গণ্য করে। আমরা এখন হেনরি কিসিঞ্জার কথিত সেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ নই। কিন্তু যে ক্ষতি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে এই বাংলার মাটিতে সংঘটিত হয়েছিল, তা কোনোদিনই পূরণ হবার নয়।
 
আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের পুরাতন হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো সভ্যতার উৎকর্ষতা কালের বিবর্তনে সারা বিশ্বে সুনামের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর সংস্কৃতি, সম্পদ, শিল্প, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবই ছিল উচ্চমানের। সে জন্য বিভিন্ন সময়ে এ ভ‚মি বাণিজ্যের উৎকৃষ্ট স্থান হয়েছিল। বিভিন্ন আগ্রাসী শক্তি বারবার এ ভ‚মির সম্পদ লুণ্ঠনে ও ক্ষমতা দখলে তৎপর হয়েছে এবং ফলস্বরূপ শোষণও করেছে বিভিন্ন সময়ে। এর শেষ দুটি শোষকগোষ্ঠী ছিল ইংরেজ ও পাকিস্তানি। বাংলার বহু সন্তান ও রাজনীতিবিদ শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, জীবন দিয়েছেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এ ভ‚মিকে রক্ষা করার জন্য। সর্বশেষ পাকিস্তানিরা যখন নানা কায়দায় পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলাকে শোষণ করছিল, তখনই এক ত্রাণ কর্তার জন্ম হয় এ বঙ্গে। এ দেশের জনগণের মায়ের ভাষা বাংলাকে হরণ করা, এ দেশের সম্পদ নানা উপায়ে লুণ্ঠন করা, জনগণের অধিকার হরণ করা, চাকরির ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা, বাঙালিদের নানাভাবে অবদমিত করে পরাধীন এক জাতিতে পরিণত করার কাজে যখন পাকিস্তানিরা লিপ্ত ছিল ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি জেগে উঠে এবং মহাসংগ্রামের শুরু হয়। এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের ১১ দফার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এ সবই বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় কোটি কোটি বাঙালি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নয় মাসে দেশকে স্বাধীন করেন। এ ঘটনাও পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। যে কারণে বলা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর সমতুল্য আর কোনো নেতা নেই- যার ত্যাগ ও সাহস বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তুলনা করা যায়। এ কারণেই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। কিন্তু এ দেশের বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী, নিমকহারাম ও পাকিস্তানপন্থি ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের ১৮ জনকে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে বাঙালির বীরত্বগাথায় কালিমা লেপন করে। ‘৭৫-এর হত্যাকাণ্ড শুধু বাঙালি জাতিকে নয়, সারা পৃথিবীর মানুষকে স্তব্ধ ও নির্বাক করে দিয়েছিল। মানুষের মনে এখনও প্রশ্ন দানা বেঁধে রয়েছে যে, নিরপরাধ, অসহায় ও নিরীহ মানুষগুলোকে কেন ঘুম থেকে উঠিয়ে ভয়কাতর পরিবেশ ও পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এক এক করে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হলো? এর উত্তর এখনও মেলেনি। ভবিষ্যতেও উত্তর পাওয়ার আশা নেই। কারণ পাপীরা কখনও সত্য কথা বলে না, সঠিক উত্তর দেয় না। বরং স্বার্থের নেশায় অন্ধ হয়। তারা মনে রাখে না যে, মিথ্যা টিকে না। পাপ ও অন্যায় করলে প্রকৃতি তাকে কখনো ক্ষমা করে না।
 
বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে কিছুটা কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এ বছর জাতির পিতার জন্মশতবর্ষও পালন করছি আমরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে। এ ঘটনা আমাদের জন্য গর্বেরও। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বীরের কখনো মৃত্যু হয় না। বঙ্গবন্ধু যেভাবে বাংলার মানুষের হৃদয়ে-কর্মে-চেতনায় ছিলেন, তেমনিভাবে স্বমমিমায় জাগ্রত আছেন। বঙ্গবন্ধুই হাজার বছরের পরাধীন বাঙালিকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার ‘স্বাধীনতা’ এনে দিয়েছেন। ফলে সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ঋণ কখনও শোধ করার মতো নয়। প্রখ্যাত লেখক অন্নদাশংকর রায়ের উচ্চারণ দিয়েই শেষ করি- ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা/ গৌরী মেঘনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার/ শেখ মুজিবুর রহমান।’

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর