প্রকল্প পরিচালকদের গৎবাঁধা অজুহাতে অসন্তোষ পরিকল্পনামন্ত্রীর

প্রকল্প পরিচালকদের গৎবাঁধা অজুহাতে অসন্তোষ পরিকল্পনামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৩ ২২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:২৪ ২২ জানুয়ারি ২০২১

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান- ফাইল ছবি

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান- ফাইল ছবি

বরিশাল বিভাগে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতি এবং প্রকল্প পরিচালকদের গৎবাঁধা অজুহাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বৃহস্পতিবার বরিশাল সার্কিট হাউসে বরিশাল বিভাগের প্রকল্পগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে বসে মন্ত্রী এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী।

সভায় আইএমইডি’র প্রতিবেদনে বরিশাল বিভাগের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। চিত্রে দেখা যায়, ছয়টি প্রকল্পে শূন্য শতাংশ অগ্রগতি রয়েছে, ১০টি প্রকল্পের অগ্রগতি ১০ শতাংশেরও কম, ১৩টি প্রকল্পে এক থেকে ২৫ শতাংশ অগ্রগতি রয়েছে, ১৯টি প্রকল্পে ২৬ থেকে ৫০ শতাংশ অগ্রগতি রয়েছে এবং ২৯টি প্রকল্পে ৫১ ভাগের বেশি অগ্রগতি রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি) জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার মূল সমস্যা হচ্ছে জমি প্রাপ্তি। জবাবে আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি ঠিক মতো করা হয়নি। ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি বাধ্যতামূলক থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে প্রকল্প পাশের পরে বাস্তবে যখন কাজ করতে যাওয়া হচ্ছে তখন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব নিয়েছেন একাধিক প্রকল্পের। সবাই ঢাকায় থাকেন। প্রকল্প এলাকায় আসেন খুব কম। নির্বাহী প্রকৌশলীরা প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যান। ঢাকায় বসে প্রকল্প মূল্যায়ন করা যায় না। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিভাগীয় শহরে গিয়ে প্রকল্পের সম্মুখ পরিস্থিতি অবলোকন করবো।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের প্রকৃত মূল্যায়ন না করার ফলে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি একটি রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল বিভাগের মেগা প্রজেক্ট পায়রা বন্দরকে ঘিরে একাধিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বরিশাল বিভাগের প্রকল্পগুলোর মোট আর্থিক মূল্য সাত হাজার ১০৩ কোটি টাকা, যা দেশের মোট প্রকল্পের তিন দশমিক ৩১ শতাংশ। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্পের ২২ শতাংশ।

আইএমইডি সচিব বলেন, অনেক সময় পরামর্শকদের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বৃদ্ধি হচ্ছে। মূল্যায়ন সভায় বলা হয়, ব্যয় কম দেখিয়ে কোনো রকমে প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে পরে রিভিশন চাওয়া হয়। অনেক সময় ঘরে বসে ফিজিবিলিটি করে দেয়া হয়। এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

সভায় শূন্য অগ্রগতি হওয়া বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প; সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুরক্ষা প্রকল্প; বরিশালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স্থাপন প্রকল্প; পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলা হেড কোয়ার্টার থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া রাস্তা নির্মাণ সীমা প্রকল্প; বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সরকারের এই মেয়াদে এম এ মান্নান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরে গত দু'বছরে বিভিন্ন বিভাগে সরেজমিনে প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে সভা করেছেন। প্রকল্প বিষয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন। দুই বছর পরে মূল্যায়ন সভায় সরকারের প্রকল্প তদারকি সংস্থা একই সমস্যা তুলে ধরেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এইচএন