৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা প্রয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা প্রয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:৩২ ২২ জানুয়ারি ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা প্রয়োগ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সরকার আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছিল, মহামারির সময়েও সাহায্য করল ভ্যাকসিন দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির যে বন্ধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের জনগণের যে বন্ধুত্ব, যে সহানুভূতি-সহমর্মিতা- তার প্রমাণ এ ভ্যাকসিন।  

উপহার হলেও করোনাভাইরাসের বহু কাক্সিক্ষত টিকা এলো বাংলাদেশে। ভারত সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে দেশটির টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। 

এদিন টিকার চালান নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট বেলা ১১টা ৪০ মিনিট হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। 

কাস্টমস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে দুটি ফ্রিজার ভ্যানে করে পুলিশ প্রহরায় টিকার বাক্স নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ঢাকা জেলা ইপিআই স্টোরেজে। ‘ভ্যাকসিনমৈত্রীর’ আকাশি রঙের ব্যানারে ঢাকা ওই ফ্রিজার ভ্যানের গায়ে আঁকা ছিল দুই দেশের পতাকা। লেখা ছিল- ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহারস্বরূপ ভারতে উৎপাদিত ২০ লাখ ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন।’ দুপুর ১টার দিকে স্টোরেজে ইপিআইয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাওলা বক্স, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম, তেজগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুলসহ কর্মকর্তারা টিকা বুঝে নেন।
 
করোনার টিকা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে ভারত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে পৃথকভাবে করোনার টিকার দুটি বক্স তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

বাংলাদেশ সরকারিভাবেও সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কোভিশিল্ড টিকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে। যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে টিকা নিয়ে যে চুক্তি তা যেভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে। আমি ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, এ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটাও যেন তারা দেখেন। যাতে আমরা ভ্যাকসিনটি পাই, সময়মতো।

সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, আগামী ছয় মাসে ৫০ লাখ করে ভ্যাকসিন আসার কথা। এ মাসে আরও ৫০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। যদি আমরা পেয়ে যাই, তা হলে ৭০ লাখ ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকবে। ৩৫ লাখ লোককে এ ভ্যাকসিন আমরা দিতে পারব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম