কৃষিকে আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিকীকরণ করছে সরকার: পলক

কৃষিকে আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিকীকরণ করছে সরকার: পলক

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৮ ১৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:০৬ ১৬ জানুয়ারি ২০২১

শ্রীকুন্ডা খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

শ্রীকুন্ডা খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, কৃষি-বান্ধব বর্তমান সরকার ফসলের গুণগতমান উন্নয়ন ও পরিমাণ বৃদ্ধির জন্যে কৃষিকে আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিকীকরণ করছে। এই লক্ষ্যে মাটির নিচে সেন্সর বসানো এবং উপর থেকে জিও স্পেশাল সার্ভের মাধ্যমে ডিজিটাল ম্যাপিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শ্রীকুন্ডা খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। পানাসি সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই খাল খনন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার ৩ হাজার একর জমির ফসল জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, জিও স্পেশাল সার্ভের মাধ্যমে মাটির গুণগতমান সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাবে। মাটির মান বিবেচনায় নিয়ে কৃষকরা সময় মতো শস্য রোপণ ও কর্তন করতে পারবেন। তারা জানতে পারবেন, কোন মাটিতে কোন ফসল ভালো হবে। আগামীতে আবহাওয়া কেমন থাকবে, বৃষ্টি হবে কি-না অথবা শীত কেমন পড়বে। তারা আরো জানতে পারবেন, মাছ চাষের জন্যে পানিতে অক্সিজেন কেমন আছে, মাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ হচ্ছে কি-না। সরকার কৃষির উন্নয়নে ইন্টারনেট অব থিংস আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিগ ডেটা ব্যবহার করার কথাও ভাবছে। অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্শিয়াল ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটও ব্যবহার করা হবে।

পলক বলেন, এখন আর কৃষককে সারের জন্যে নেতাদের কাছে ধর্না দিতে হয় না, লাঞ্ছিত হতে হয় না, মামলার মুখোমুখিও হতে হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন কৃষি-বান্ধব বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সময় মতো উন্নত বীজ, সার তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট দূর হওয়াতে কৃষকরা ডিজেলের পরিবর্তে অনায়াসে বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্রের মধ্যমে জমি চাষাবাদ করতে পারছেন। করোনাকালীন সময়ে কৃষি শ্রমিকের আন্তঃজেলা যাতায়াত নিশ্চিত করার ফলে যথাসময়ে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলাতে বিগত ১২ বছরে ১০০ কিলোমিটার খাল খননের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। জমিতে সেচের ব্যবস্থাসহ আবাদি জমির জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসন হয়েছে। এর ফলে চলনবিলে এখন ৬০ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে। খাল খননের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে সাবমার্সিবল রাস্তার ব্যবস্থা করার ফলে কৃষকরা অনায়াসে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ করতে পারছেন।

সিংড়া উপজেলার সুকাশ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পানাসি সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া, সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমান শেখ, সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এইচএন