রেল যোগাযোগ আরো সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

রেল যোগাযোগ আরো সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৯ ২৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২৩:৩৮ ২৯ নভেম্বর ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন- পিআইডি

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার স্বল্প ব্যয়ে পণ্য ও লোকজনের পরিবহন নিশ্চিত করতে সারা দেশে রেল যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করছে।

রেল যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আরো প্ল্যান আছে ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত করার এবং ইতিমধ্যেই এবিষয়ে সমীক্ষা শুরু করার পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সত্যিই খুব আনন্দিত যে, আজ থেকে যমুনা নদীর ওপর পৃথক রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই সেতু নির্মাণের ফলে আমি মনে করি দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তো হবেই আন্তর্জাতিকভাবেও আমরা লাভবান হতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে দেশের মানুষের ভাগ্যের আরো উন্নয়ন করতে হবে। তাহলেই জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে আমরা সক্ষম হবো, ইনশাল্লাহ।

ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার নতুন ইঞ্জিন ও বগি সংগ্রহসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে রেলপথ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এখন রেলপথ জনগণকে পরিষেবা দিচ্ছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ চলাকালীন পণ্য পরিবহন করার ক্ষেত্রে অবদান রেখে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, রেলপথ, সড়ক পথ, আকাশ পথ এইসবগুলোর উন্নয়নেই আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তাতে আমাদের দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে ও মজবুত হবে।

এছাড়া ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যখন আমরা সংযুক্ত হয়ে যাব, তখন সেটা আমাদের জন্য বিরাট অর্জন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন। আর সেই সেতুবন্ধন করতে গেলে আমাদের ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে।

ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে এই দুটোর সাথে যদি আমরা সম্পৃক্ত হতে পারি তাহলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে। মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। এবং আমাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু নির্মাণে জাপানের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের জাপান সফরের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাপান সরকার আমাদের সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছে। সে জন্য আমি বিশেষভাবে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই জাপান সরকারকে।

 

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকী ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা স্বাগত বক্তৃতা করেন। মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

গণভবন প্রান্তে এবং মূল অনুষ্ঠানস্থলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, স্থানীয় এমপি, উন্নয়ন সহযোগী জাপানের জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

যমুনা নদীর ওপরে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেল সেতুটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাইকা। ২০২৫ সাল নাগাদ এর নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এইচএন/এসআর/আরএ