মাস্কের চাহিদা বেশি, দামও দ্বিগুণ

মাস্কের চাহিদা বেশি, দামও দ্বিগুণ

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৮ ২৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:২১ ২৮ নভেম্বর ২০২০

বাবুবাজার ব্রিজের নিচে পাইকারী দোকানে মাস্ক বেচাকেনা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাবুবাজার ব্রিজের নিচে পাইকারী দোকানে মাস্ক বেচাকেনা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মাস্ক ব্যবহারে কড়াকড়ি শুরু করার সুযোগে এর দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সর্বত্র বেচাকেনা হওয়া সার্জিক্যাল মাস্ক এরই মধ্যে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘নো-মাস্ক নো-সার্ভিস’ চালু করেছে সরকার। মানুষকে মাস্ক পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে বাধ্য করতে মাঠপর্যায়েও নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাস্ক না পড়লে করা হচ্ছে জরিমানাও। 

এ পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে বের হলে সঙ্গে একটি মাস্ক রাখছেন সবাই। এতে বাজারে মাস্কের চাহিদা ও বিক্রি দুটোই বেড়ে গেছে। আর এ সুযোগে সব ধরনের মাস্কের দাম আগের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে এক সময়ের আমদানি নির্ভর এই মাস্ক এখন দেশের ব্যবসায়ীরাই তৈরি করছেন। প্রতিদিন বিপুল সার্জিক্যাল মাস্কসহ অন্যান্য মাস্ক দেশেই তৈরি করার পাশাপাশি সরাসরি অনলাইনেও বিক্রি করা হচ্ছে। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে মাস্কের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বসে। ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় যে মাস্ক সরবরাহ হয়, তার বড় অংশ যায় বাবুবাজার থেকে। 

রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসি, পল্টনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মার্কেট ও কারওয়ানবাজারে খুচরা ও পাইকারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মাস্কের কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা দোকানেও।

রাজধানীর সদরঘাট, গুলিস্তান, পল্টন মোড়, ফার্মগেটের পাইকারি ও খুচরা দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর দাম আগের মতোই রয়েছে। দাম বাড়েনি করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী হেক্সিসলেরও।

সদরঘাটের জামাল নামে এক ফার্মেসির মালিক জানান, বর্তমানে তার দোকানে ৫০টির এক প্যাকেট সার্জিক্যাল মাস্ক ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও তা ১২০টাকায় বিক্রি করা হতো। 

রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে পাইকারি মাস্ক ব্যবসায়ী সৈকত বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার ফলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে এর চাহিদা ও দাম বেড়েছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত মাস্ক আছে। 

জানতে চাইলে পাইকারি মাস্ক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, সরকার মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিযান শুরু করেছে। এতে করে মাস্কের চাহিদাও বাড়ছে। ঢাকার বাইরেও মাস্কের চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্যাকেট আজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুর থেকে পাইকারি মাস্ক কিনতে আসা দুই ব্যবসায়ী কালু সরদার ও আক্কাস বলেন, মাস্কের দাম গত মাসের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এতো দামে মাস্ক কিনে লাভ হবে কি-না, জানি না। 

বাবুবাজার ব্রিজের নিচে পাইকারী দোকানে মাস্ক বেচাকেনা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তারা আরো বলেন, গত সপ্তাহে ৫০টির এক প্যাকেট সার্জিক্যাল মাস্ক  ৬০ টাকা এবং ১০টির এন-৯৫ মাস্কের প্যাকেট ২০০ টাকা পাইকারি কিনেছি। এখন এসে দেখি দ্বিগুণ দাম হয়ে গেছে। বর্তমানে  সার্জিক্যাল মাস্ক ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং এন-৯৫ মাস্ক চারশ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনছি। 

পল্টন মোড়ের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আনিস মিয়া বলেন, শীত বাড়ছে। এ কারণে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে জনগণের বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ার জন্য সরকার কঠোর হয়েছে। তবে মাস্কের কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের দেশেই এখন ভালো মানের মাস্ক উৎপাদন হচ্ছে। এরপরও  দাম বাড়ছে। আগের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে পাইকারিতে মাল কিনতে হয়। তাই আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

সোরহাব মিয়া তাঁতি বাজার মোড়ে গাড়িতে মাস্ক বিক্রি করেন। তিনি বলেন, মাস্কের দাম বেড়ে গেছে। আগে আমরা ৪টা সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি করতাম ১০ টাকায়, এখন ২টা ১০টাকায় বিক্রি করছি।

বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়। অথচ কয়দিন আগেও ১০ টাকায় পাওয়া গেছে ৩ থেকে ৪টি মাস্ক। আগে ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাপড়ের মাস্কের দামও এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ফিল্টার মাস্ক এখন আর ততটা পাওয়া যায় না, পিসপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। আগে ২০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এছাড়া কেএন-৯৫ মাস্কের দাম ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এন-৯৫ মাস্কের দাম ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় মিলছে এ মাস্ক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর