নিম্নচাপটিই হতে পারে ঘূর্ণিঝড়, আবহাওয়া অফিসের সতর্কতা

নিম্নচাপটিই হতে পারে ঘূর্ণিঝড়, আবহাওয়া অফিসের সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৮ ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:১১ ২৩ অক্টোবর ২০২০

উপকূল অতিক্রম করছে গভীর নিম্নচাপ। ছবি: সংগৃহীত

উপকূল অতিক্রম করছে গভীর নিম্নচাপ। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তবে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, শেষ সময়ে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে আসবে।

শুক্রবার দুপুর ১টায় আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি দুপুর ১২টায় উপকূলীয় পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা এলাকায় অবস্থান করে। যা আজ সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার; যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী অর্থাৎ ৪০ থেকে ৮৮ মিলিমিটার থেকে অতি ভারী অর্থাৎ ৮৯ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশেই তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে।

নিম্নচাপটির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের কাছাকাছি দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

নিম্নচাপটির প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুমারখালীতে ২২ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে খেপুপাড়ায় ২৫৪ মিলিমিটার। এছাড়া হাতিয়ায় ১৮৯ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ১৭৪ মিলিমিটার, কুতুবদিয়ায় ১৬৬ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৪২ মিলিমিটার এবং ভোলায় ১২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে