বাসযোগ্য ঢাকা করতে যে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন

বাসযোগ্য ঢাকা করতে যে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৪৬ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০৭:৫৪ ২১ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

‘ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে এর ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনায় জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন’। 

মঙ্গলবার ‘ঢাকা শহরের জনঘনত্ব, বাসযোগ্যতা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিআইপির প্রতিবেদন প্রকাশ’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।

ভার্চুয়াল এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করেন।

বক্তারা বলেন, বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকা শহরের অতি নিম্ন অবস্থানের প্রধান কারণ অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও অধিক জনঘনত্ব। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় জনসংখ্যা, জনঘনত্ব ও শহরের বিদ্যমান অবকাঠামো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাদির সাপেক্ষে শহরের ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে ঢাকা শহর তার বাসযোগ্যতা হারাবে।

ড. আদিল মুহাম্মদ খান তার প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জনঘনত্বের একটি তুলনা চিত্র তুলে ধরেন। একটি বড় শহরের জনঘনত্বের জন্য প্রতি একরে ৭০ থেকে ৮০ জন মানদণ্ড ধরা হয়, যা সর্বোচ্চ ১২০ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহর এলাকায় হতে পারে।

তিনি বলেন, জাপানের টোকিও শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার ওয়ার্ডসমূহের জনঘনত্ব একরপ্রতি ৯০ এর নিচে, অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি শহরের সর্বোচ্চ জনঘনত্ব প্রতি একরে ৫৮ জন। 

ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সিঙ্গাপুরে শতকরা ৮০ ভাগ জমি সরকারের মালিকানাধীন এবং শতকরা ৯০ ভাগ আবাসন সরকার প্রদান করে। একটা পরিকল্পিত এলাকা (প্ল্যানিং ডিস্ট্রিক্ট) ব্যতীত বাকি সব পরিকল্পিত শহরের জনঘনত্ব প্রতি একরে ৮০ জনের নিচে।

তিনি বলেন, ভারত এবং ইউরোপের অনেক বড় বড় শহরের তুলনায় ঢাকার লালবাগ, চকবাজারের জনঘনত্ব প্রতি একরে ৬০০ থেকে ৭০০। যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ অথচ সেখানে অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধাদি পরিকল্পনার সব মানদণ্ড ও সূচকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। 

এদিকে ঢাকার জনঘনত্ব ধারণক্ষমতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকায় পুরাতন ওয়ার্ডসমূহের মধ্যে প্রতি একরে ১৫০ জনকে ধরা হলেও ৯০ ভাগ এলাকা সেই ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। 

ঢাকায় প্রতি একরে ৩০০ জন হিসেবে ৬৩ ভাগ ওয়ার্ড ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। প্রতি একরে ৪০০ জন হিসেবে ৪০ ভাগ ওয়ার্ড ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। যেখানে মেগাসিটির ক্ষেত্রে জনঘনত্বের মানদণ্ড ধরা হয় প্রতি একরে সর্বোচ্চ ১২০জন, যা খসড়া ঢাকা কাঠামোগত পরিকল্পনা (২০১৬-৩৫) এ প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর