রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশে পৌঁছেছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশে পৌঁছেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:০১ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৫ ২১ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ রাশিয়া থেকে মোংলা সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছেছে। এ যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুটি ইমার্জেন্সি কোর কুলিং সিস্টেম (ইসিসিএস) ট্যাংক ও দুটি হাই প্রেসার হিটারস পিভিডি-কে-ফাইভ এবং পিভিডি-কে-সিক্স।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপথে রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গত সোমবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পৌঁছায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। যা মঙ্গলবার মোংলা সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছায়। 

এই যন্ত্রাংশগুলোর ওজন প্রায় ৪০০ টনের কাছাকাছি। ইসিসিএস ট্যাংকের প্রতিটির ওজন ৭৮ টন। ইসিসিএস নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম, যা রিয়েক্টর কোরে বোরিক এসিড সাপ্লাই করে। অন্যদিকে হাই প্রেসার হিটারস পিভিডি-কে-ফাইভ এর ওজন ১১০ টন এবং পিভিডি-কে-সিক্স এর ওজন ১৩০ টন।

এছাড়াও দেশে এসে পৌঁছেছে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের মূল যন্ত্রাংশ একটি নিউক্লিয়ার রিয়েক্টর ও একটি স্টিম জেনারেটর। এগুলো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর জানান, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল হচ্ছে পারমাণবিক চুল্লি। যেখানে মূল জ্বালানি থাকবে। এটিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের হার্ট বা হৃদপিণ্ড বলা যায়। আর স্টিম জেনারেটরও এই চুল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিউক্লিয়ার রিয়েক্টরটির ওজন ৩৩৩ দশমিক ৬ টন এবং স্টিম জেনারেটরের ওজন ৩৪০ টন। 

ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, এ ধরনের যন্ত্রাংশ স্থানান্তর এবং পরিবহন একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষ করে চুল্লি এবং স্টিম জেনারেটর স্বয়ংক্রিয় যানে করে ভোলগোদোনস্কের সিমলিয়ান্সককের একটি জেটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে এগুলো নভোরোসিয়েস্কে পৌঁছায়। সেখান থেকে কৃষ্ণসাগর এবং সুয়েজ ক্যানেল হয়ে এটি মোংলায় এসে পৌঁছায়।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ এই ইক্যুইপমেন্ট রাশিয়ান ফেডারেশনের সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে বাংলাদেশের স্থানীয় বিশেষ বার্জে স্থানান্তর করা হবে। এখন মাদার ভেসেল থেকে আনলোড করা হচ্ছে। আগামী ৫ নভেম্বর মোংলা বন্দর থেকে এই যন্ত্রাংশ নিয়ে আরেকটি জাহাজ রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। নদীপথে চাঁদপুর হয়ে আগামী ২০ অথবা ২১ নভেম্বর পদ্মাপাড়ে প্রকল্প এলাকায় নবনির্মিত রূপপুর নৌ-বন্দরে পৌঁছাবে।

ড. মো. শৌকত আকবর বলেন, খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল এবং স্টিম জেনারেটর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করবেন বলে আমরা আশা করছি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তিশালী দেশ হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে যাচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সব মিলিয়ে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/আরএইচ/টিআরএইচ/এমআরকে