সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১০ ১৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৬ ১৯ অক্টোবর ২০২০

গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন - পিআইডি

গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন - পিআইডি

করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোভিড নিয়ে স্পেশাল আলোচনা হয়েছে। সব জায়গা থেকেই, বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পুনরায় করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকদিন থেকে মিটিংয়ে সবাইকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার জন্যে এবং মাস্ক ব্যবহার করার জন্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।  

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যদি আমরা সবাই মাস্ক ব্যবহার করি, তাহলে অটোমেটিক আমাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে আসবে। এজন্যেই মানুষকে আরো বেশি করে সচেতন করতে হবে। কারণ মাস্ক ব্যবহারে অনেকের মধ্যেই ইতিমধ্যে একটু রিল্যাক্স ভাব দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনোভাবেই পাবলিক প্লেস বা মসজিদ বা অন্য গ্যাদারিং, সামনে দুর্গাপূজা, যেসব অনুষ্ঠান হবে কোনো অবস্থায়ই কেউ যেন মাস্ক ছাড়া না আসে। এটা আরেকটু ইনফোর্স করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা দৃঢ় ইচ্ছা ও আশা প্রকাশ করেছে যে, সবাই যদি মাস্ক ব্যবহারে সচেতন হয়, তাহলে অটোমেটিক্যালি এটা থেকে রিলিভ পাব।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা যেন সবাই নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করি। অন্তত যখন বাইরে আসি।

মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অলরেডি গতকাল (রোববার) কমিশনার কনফারেন্স ছিল, সেখানে আমরা ক্লিয়ার কাট ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আমরা বলে দিয়েছি তারা যেন ইমামদের মাধ্যমে সব মসজিদ থেকে অন্তত জোহর ও মাগরিবের নামাজের পর মাইক বা সামনাসামনি নামাজের সময় সচেতন করেন। প্রত্যেকটি মসজিদ, অন্যান্য বাজার বা গণজমায়েত হয়- এমন স্থানে যাতে স্লোগানের মতো (লেখা) থাকে যে, ‘অনুগ্রহ করে মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করবেন না।’ এটা সবার কাছেই রিকোয়েস্ট থাকবে।

তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হবে। কালকে কমিশনারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাস্ক পরাতে যেভাবে যতটুকু সম্ভব মানুষকে রিকোয়েস্ট, মোটিভেট করে বা ফোর্স যদি করতে হয়, আইন প্রয়োগ যদি করতে হয় আইন প্রয়োগ করবো।

বৈঠকে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪২৭টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এর মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৫৪টি। বাস্তবায়নের হার ৮২ দশমিক ৯০ শতাংশ। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছরের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কম।

গত বছরের বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর এ বছরের জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেয়া সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের হার ৬৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এছাড়া বৈঠকে এয়ার সার্ভিস বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের জন্য একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/আরএইচ