‘ডিজি নয়, স্বাস্থ্যের ড্রাইভার হয়ে মরতে চাই’

‘ডিজি নয়, স্বাস্থ্যের ড্রাইভার হয়ে মরতে চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৫ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

আক্ষেপকারী চিকিৎসক

আক্ষেপকারী চিকিৎসক

‘আমি স্বাস্থ্য ডিজি হতে চাই না, আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা ডিজির ড্রাইভার হয়ে মরতে চাই, রিটায়ার্ড হতে চাই। আমি ডিজি হতে চাই না।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়ি চালক মালেক গ্রেফতারের পর এভাবেই আক্ষেপের কথা শোনাচ্ছিলেন এক চিকিৎসক। তার কথাতেই উঠে আসে কতটা প্রভাবশালী ছিলেন অধিদফতরের এই গাড়ি চালক। তিনি বলেন, মালেক ড্রাইভারের কারণে আমরা অফিসে আসতে পারতাম না। তার দলবল নিয়ে হয়রানি করতো। বলতে গেলে ডিজি অফিসটা মালেকের বাবার অফিস।

মালেক এখন জেলে, তবু অধিদফতর জুড়ে যেন ছড়িয়ে আছে তার জাল। সহকর্মীরা অনেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যারা কথা বলছেন, তারা গাইছেন গুণকীর্তন। তাদের দাবি, কেউ বিপদে পড়লে হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা আর চাকরি দিয়ে সাহায্য করতেন মালেক। তাহলে তার সেই ক্ষমতা বা টাকার উৎস ছিল কী? সেখানে নিরব তার শুভাকাঙ্ক্ষীরাও।

মালেকের মেয়ের জামাই অধিদফতরের ক্যান্টিন লিজ নিলেও এখনো তা পরিচালনা করা হয় সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী দিয়ে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে মালেকের এত ক্ষমতার উৎস কী?

একজন বলেন, যদি কোনো অধস্তন কর্মকর্তার এত প্রতিপত্তি হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেই কার্যালয়ের যে সর্বোচ্চ অবস্থানে আছেন তার আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে থাকে।

আব্দুল মালেকের মেয়ে ও ভাই অধিদফতরের অফিস সহকারী পদে, ভাতিজা ও এক নিকটাত্মীয় অফিস সহায়ক পদে, ভাগ্নে ও ভায়রা ড্রাইভার বড় মেয়ের জামাতা ক্যান্টিন পরিচালনা করছেন।

প্রসঙ্গত, অবৈধ অস্ত্র, জাল নোট ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল ভোরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়।

তুরাগে গাড়িচালক আবদুল মালেকের রয়েছে ২৪টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট সাত তলার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি। একই এলাকায় ১২ কাঠার প্লট। এছাড়া হাতিরপুলে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনকে জিম্মি করে চিকিৎসকদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেন। চিকিৎসকদের বদলি-পদোন্নতিতেও ছিল তার হাত। নিয়োগ, বদলি ও পদন্নোতিতে তদবিরের নামে-বেনামে আদায় করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। যার বদৌলতে অল্প দিনেই শতকোটি টাকারও বেশি অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন এই মালেক ড্রাইভার।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই