জুনেই খুলছে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে

জুনেই খুলছে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৯ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:২৫ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের দ্বিতীয় অংশ (তেঘরিয়া-বাবুবাজার) আগামী বছরের জুনের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এ অংশের দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার। তাতে রাজধানীর দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে আরো সহজ।

জানা গেছে, আড়াই কিলোমিটারই হবে এলিভেটেড (উড়াল)। এরমধ্যে এলিভেটেড অংশের কাজ শতভাগ সম্পন্ন। বাকি অংশ সমতলভূমিতে। এর আগে মার্চে খুলে দেয়া হয় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার মূল অংশ। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের এ অংশ খুলে দেয়া হলে বাবুবাজার, নয়াবাজার, বসিলা, মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জের এক অংশের বাসিন্দাদের সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে। তারা এর সুবিধা নিয়ে স্বল্পসময়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবেন। একইভাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ হবে। এরইমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধা ভোগ করছেন রাজধানীবাসী ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। কমেছে যাতায়াত ব্যয় ও ফুয়েল খরচ। কমেছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

দ্বিতীয় ফেজের এলিভেটেড অংশের সড়কের পাশে রেলিং বসানো ও লেন বিভাজন রঙের কাজ চলছে। বসানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। টানা হচ্ছে বৈদ্যুতিক তার। এক্সপ্রেসওয়ের এ অংশ চালু হলে ঢাকার দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। বাবুবাজার থেকে মাওয়া যেতে লাগবে ৩০-৩৫ মিনিটের মতো। সেই সঙ্গে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এর ফলে যোগাযোগের এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। 

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা-খুলনা (এন-৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার ছয় লেনের এ এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে। 

এক্সপ্রেসওয়েতে থাকছে না কোনো ট্রাফিক ক্রসিং। এ এক্সপ্রেসওয়ের মাঝ বরাবর থাকবে ৫ মিটার প্রস্থের মিডিয়ান। যেখানে ভবিষ্যতে মেট্রোরেল নির্মাণ করা সম্ভব হবে। 

যা রয়েছে এই প্রকল্পে: 

এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ হচ্ছে দুটি প্যাকেজে। প্রথম প্যাকেজে যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে শরীয়তপুরের পাঁচ্চর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। নির্মাণাধীন এ এক্সপ্রেসওয়েতে মোট সেতুর সংখ্যা ৩১টি। এগুলোর মধ্যে পিসি গার্ডারের সেতু নির্মাণ হচ্ছে ২০টি ও আরসিসির ১১টি। এ ছাড়া ধলেশ্বরী-১ ও ধলেশ্বরী-২ এবং আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর তিনটি বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। 

পুরোদমে চলছে যেসব কাজ:

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক রাতদিন এসব সেতু, ওভারপাস, ফ্লাইওভার ও সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যস্ত। এর বাইরে এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হচ্ছে আবদুল্লাহপুর, হাঁসারা, শ্রীনগর, কদমতলী, পুলিয়া বাজার ও সদরপুর ফ্লাইওভার। নির্মাণ হচ্ছে ৪৫টি কালভার্টও। 

এছাড়া জুরাইন, কুচিয়ামোড়া, শ্রীনগর ও আতাদিতে ৪টি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণেরও কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। গ্রেট সেপারেটর হিসেবে ১৫টি আন্ডারপাস ও ৩টি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে। এগুলো হবে যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ও ভাঙ্গায়। এক্সপ্রেসওয়ের দুই প্রান্তে ২টি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে। এ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশেষ করে ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, খুলনাসহ সংলগ্ন সব জেলার সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। 

সড়ক বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, নির্মাণাধীন ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে হবে এশিয়ান হাইওয়ের করিডর-১-এর অংশ। 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকায় আট লেনের এ এক্সপ্রেসওয়েটি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন-এসডব্লিউও (পশ্চিম)। এরইমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য আরো ৬০০ কোটি টাকা যোগ হয়েছে এ প্রকল্পে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা জোন) সবুজ উদ্দীন খান বলেন, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েটি গত মার্চে যানবাহন চলার জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ যোগাযোগব্যবস্থার এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী জুনের মধ্যেই তেঘরিয়া-বাবুবজার ব্রিজ অংশও খুলে দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এমআরকে/টিআরএইচ